ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৬ কার্তিক ১৪৩৩, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

৬ বিলিয়ন ডলার মুনাফা নোভার্টিসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২:০৭, ২১-০৭-২০২৬ | আপডেট: ২:১১, ২১-০৭-২০২৬

৬ বিলিয়ন ডলার মুনাফা নোভার্টিসের

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

শীর্ষ হৃদরোগের ওষুধ এনট্রেস্টোর বিক্রি অর্ধেকে নেমে গেলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাজারের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার পরিচালন মুনাফা করেছে সুইস ওষুধ কোম্পানি নোভার্টিস। নতুন ওষুধের বিক্রি বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে কোম্পানিটি পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার চাপ সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রয়টার্স জানায় বিশেষ খাত বাদে নোভার্টিসের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মূল পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্লেষকদের গড় প্রত্যাশিত ৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। ফল প্রকাশের পর প্রাথমিক লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ার প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।

নোভার্টিস জানিয়েছে, তাদের সর্বাধিক বিক্রীত হৃদরোগের ওষুধ এনট্রেস্টোর বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক প্রতিযোগিতা বাড়ায় ৫০ শতাংশ কমে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকরা এ ওষুধের বিক্রি ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করেছিলেন।

এনট্রেস্টো নোভার্টিসের মোট বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশের সমান হওয়ায় এর পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়া কোম্পানিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবুও নোভার্টিস ২০২৬ সালের পূর্ণ বছরের মূল পরিচালন মুনাফা পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। মুদ্রা বিনিময় হার বাদ দিলে কোম্পানিটি কম এক অঙ্কের শতাংশ হারে মুনাফা কমার পূর্বাভাস বহাল রেখেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট বিক্রি স্থির মুদ্রা ভিত্তিতে ১ শতাংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নভার্টিস আগেই জানিয়েছিল, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তারা আবার বিক্রি বৃদ্ধির ধারায় ফিরতে চায়।

কোম্পানির নতুন ওষুধগুলো এ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্তন ক্যানসারের ওষুধ কিসকালির বিক্রি ৪৪ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ক্যানসারের আরেক ওষুধ স্কেমব্লিক্সের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫৬২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সোরিয়াসিসের ওষুধ কোসেন্টিক্সের বিক্রি ১২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

নোভার্টিস আরও জানিয়েছে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে বিক্রয়, সাধারণ ও প্রশাসনিক ব্যয় ৬ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুনাফার পেছনে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ বড় ভূমিকা রেখেছে।

কোম্পানিটি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য কিসকালি, স্কেমব্লিক্স এবং নতুন গবেষণাধীন ওষুধগুলোর ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে পেলাকারসেন, রেমিব্রুটিনিব ও ডেল-ডেসিরান—এই তিনটি পরীক্ষাধীন ওষুধ ভবিষ্যতে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০৩০ সালের পর কোসেন্টিক্স ও কিসকালির পেটেন্ট সুরক্ষা শেষ হলে এসব ওষুধই নভার্টিসের পরবর্তী প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করবে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন