ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

নভোর মুনাফার পূর্বাভাস বাড়লেও আস্থাহীন বিনিয়োগকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১:৩৫, ০৫-০৮-২০২৬

নভোর মুনাফার পূর্বাভাস বাড়লেও আস্থাহীন বিনিয়োগকারীরা

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

২০২৬ সালের মুনাফা ও বিক্রির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক। তবে স্থূলতার নতুন প্রজন্মের ওষুধের গবেষণায় একের পর এক ধাক্কা এবং ভবিষ্যৎ ওষুধের পাইপলাইন নিয়ে উদ্বেগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক ডাউস্টার।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ডাউস্টার বলেন, গবেষণায় ব্যর্থতার পর কোম্পানিকে আরও দ্রুত উদ্ভাবনে মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে বড় অধিগ্রহণের পরিবর্তে সম্ভাবনাময় ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের সুযোগও মূল্যায়ন করছে নভো নরডিস্ক।

মঙ্গলবার কোম্পানিটি চলতি বছরের মুনাফা ও বিক্রির পূর্বাভাস বাড়ালেও বাজারের নজর ছিল নতুন ওরাল ওয়েগোভি এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্থূলতার ওষুধ ক্যাগ্রিসেমা-র ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলের দিকে। ওয়েগোভির প্রত্যাশার তুলনায় কম বিক্রি এবং ক্যাগ্রিসেমার নতুন ট্রায়ালে হতাশাজনক ফল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত নোভোর এডিআর শেয়ারের দাম মঙ্গলবার ৬ শতাংশ কমে যায়। বুধবার কোপেনহেগেন স্টক এক্সচেঞ্জেও কোম্পানির শেয়ার প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ দরপতন হয়।

ডাউস্টার জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চালু হওয়া ওরাল ওয়েগোভি বর্তমানে মুখে খাওয়ার স্থূলতার ওষুধের বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ দখল করে আছে। ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর খুব শিগগিরই জার্মানিতেও ওষুধটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন বিনিয়োগকারীদের মূল উদ্বেগ নভোর দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি। কারণ, কোম্পানির সবচেয়ে সফল ওষুধ সেমাগ্লুটাইড ভবিষ্যতে পেটেন্ট সুরক্ষা হারালে শক্তিশালী নতুন ওষুধের পাইপলাইন না থাকলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে হৃদ্‌রোগের ওষুধ জিলটিভেকিম্যাব এবং স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ওষুধ ক্যাগ্রিসেমা-র ট্রায়ালে ধাক্কা খেলেও কোম্পানির কৌশলে পরিবর্তন আসছে না বলে জানান ডাউস্টার। বরং গবেষণা ও উন্নয়নে আরও গতি আনা এবং সম্ভাবনাময় নতুন প্রযুক্তি ও ওষুধ অধিগ্রহণে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) কারস্টেন মাঙ্ক নুডসেন বলেন, গত বছরের পুনর্গঠনের সময় প্রায় ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পর আপাতত নতুন করে বড় ধরনের ব্যয়সংকোচন কর্মসূচির পরিকল্পনা নেই। এখন কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য গবেষণা সক্ষমতা ও ওষুধের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী করা।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন