শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪:২২, ৩০-০৭-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন এবং ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ১৭ মিলিয়নের বেশি মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ১৫টি অংশীদার এনজিওর মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৭২ জন দক্ষ জনবল কাজ করছেন।
বক্তারা জানান, এসব কেন্দ্রে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবাসহ ১৬টির বেশি সেবা দেওয়া হয়। আগে রেড কার্ডের মাধ্যমে নগর অতি দরিদ্রদের ৩০ শতাংশকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
তাদের দাবি, গত ১ জুলাইয়ের পর থেকে অংশীদার এনজিওগুলো মানবিক কারণে নিজেদের অর্থায়নে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ বা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন কোনো চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না থাকায় এ কার্যক্রম আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ হলে টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টিসেবা এবং দরিদ্র মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এতে মা ও শিশুমৃত্যু বাড়ার পাশাপাশি সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তারা আরও বলেন, সরকার নগর স্বাস্থ্যসেবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থায়ন নিশ্চিত না করে হঠাৎ সেবা বন্ধ করা হলে তা নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় সংকট তৈরি করবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরে বক্তারা নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, বর্তমান এনজিওগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি করা, দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরি সংরক্ষণ এবং টেকসই নগর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এমপি/ আরআই