শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:৫৪, ৩১-০৮-২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৭, ৩১-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে দাম সংবেদনশীল ধূমপায়ীরা বেশি দামের ব্র্যান্ড ছেড়ে কম দামের সিগারেট বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের দাম বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ধূমপান নিরুৎসাহিত করা। কিন্তু নিম্নস্তরের সিগারেট তুলনামূলক সস্তা থাকলে ধূমপায়ীদের জন্য তামাকজাত পণ্য কেনা সহজ হয়। এতে ধূমপান ছাড়ার পরিবর্তে এক ব্র্যান্ড থেকে অন্য ব্র্যান্ডে স্থানান্তর ঘটতে পারে। ফলে তামাক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা রোগ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হয়।
২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশের বাজারে নিম্নস্তরের সিগারেটের অংশ ছিল ৮০ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বাজারে কম দামি সিগারেটের আধিপত্য ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সস্তা সিগারেট সহজলভ্য থাকলে বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড: ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, সিগারেট থেকে সরকারের রাজস্ব প্রত্যাশা অনুযায়ী না আসার অন্যতম কারণ হতে পারে সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের দামের পরিবর্তনের প্রভাব। উচ্চস্তরের ব্র্যান্ডের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে, অন্যদিকে নিম্নস্তরের ব্র্যান্ডের দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে। ফলে স্থির আয়ের ভোক্তারা উচ্চমূল্যের ব্র্যান্ড থেকে কম দামের ব্র্যান্ডে চলে যেতে পারেন।
তিনি বলেন, আগে যারা উচ্চস্তরের ব্র্যান্ডের সিগারেট কিনতেন, তারা এখন তুলনামূলক কম দামের নিম্নস্তরের ব্র্যান্ড বেছে নিচ্ছেন।
এদিকে কম দামি সিগারেটের বাজার বাড়ার প্রভাব পড়ছে সরকারের রাজস্বেও। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সিগারেট খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে সিগারেট খাতের রাজস্ব প্রায় ৪৫ শতাংশ বা দেড় হাজার কোটি টাকা কমেছে।
বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু উচ্চমূল্যের সিগারেটের দাম বাড়ালে হবে না। নিম্নস্তরের সিগারেটের দামও ধাপে ধাপে বাড়াতে হবে এবং বিভিন্ন মূল্যস্তরের মধ্যে দামের ব্যবধান কমাতে হবে। এতে সস্তা সিগারেটে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমবে, ধূমপান নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তামাকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
এমপি/ আরআই