শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪:২৬, ২৮-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) সম্মেলনকক্ষে ফোর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (এফএবি) আয়োজিত ‘স্ট্রেংদেনিং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপস ফর ফোর্টিফিকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং এটি একটি সর্বজনীন মানবাধিকার। সংবিধান অনুযায়ী, নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনস্বাস্থ্যের উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ পুষ্টি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সংযোজনের মাধ্যমে পুষ্টিমান বাড়ানোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগকে আরও ফলপ্রসূ করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পুষ্টিকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কার্যক্রমের সমন্বয় ও বাস্তবায়ন সহজ করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হলে কাজের সুবিধা হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, মো. ওসমান হারুনী, ফারিয়া শবনম এবং জাকির ইবনে হাই।
আলোচনায় খাদ্য পুষ্টিকরণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা বাড়াতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, খাদ্য পুষ্টিকরণ কার্যক্রমকে টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বাস্তবায়ন পর্যায় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজন ও পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এমপি/ আরআই