শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩:২৮, ০৬-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট, হাঁসারচকসহ চার গ্রামের প্রায় আট থেকে ১০ হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার ভরসা এ কমিউনিটি ক্লিনিক। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের দেয়ালজুড়ে স্যাঁতসেঁতে দাগ, ছাদের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন। ভাঙা জানালা ও দরজাও দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতার চিত্র তুলে ধরছে।
ক্লিনিকে যাওয়ার একমাত্র সড়কটির অবস্থাও নাজুক। খানা-খন্দে ভরা ইটের সড়কটি বর্ষায় কাদায় ভরে যায়। এতে রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ক্লিনিকে কর্মরত ব্যক্তিরা জানান, ১৯৯৬ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির এমন অবস্থা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ক্লিনিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূরের হাসপাতালে যেতে সময় ও অর্থ বেশি লাগে। তাই গ্রামের মানুষের কাছে এটিই প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা। কিন্তু ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা রোজিনা খাতুন বলেন, ‘ক্লিনিকটি আমাদের জন্য খুব দরকারি। কিন্তু ভবনটির অবস্থা দেখে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার করা দরকার।’
সুমিত্রা মণ্ডল বলেন, ‘দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। তাই গ্রামের মানুষের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকটিই ভরসা। ভবনটি ভালো থাকলে সেবাও আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পাওয়া যেত।’
ধুমঘাট হাঁসারচক কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি দীপঙ্কর কুমার মণ্ডল বলেন, ‘এ ক্লিনিকটি শুধু একটি ভবন নয়, চার গ্রামের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে আমাদেরও অনেক কষ্ট করে সেবা দিতে হয়।’
ওষুধের সরবরাহ সম্পর্কে তিনি জানান, আগে প্রতিটি ক্লিনিকে ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। এখন পাঁচ ধরনের ওষুধ বাদ দিয়ে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জিয়াউর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় ভবনটির খুবই খারাপ অবস্থা। তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শুধু এ কমিউনিটি ক্লিনিক নয়, আরও কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এমপি/ আরআই