শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭:৫৫, ০৬-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত গবেষণায় ২৭টি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে সাতটি পুরোনো ও ২০টি নতুন হাঁড়ি ছিল। পরীক্ষায় সব কটি হাঁড়ি থেকেই খাবারে সিসা মিশতে দেখা গেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, নতুন হাঁড়িতে প্রথমবার রান্না করা ভাতে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সিসা পাওয়া গেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) শিশু ও ছোটদের খাবারের জন্য নির্ধারিত সিসার মাত্রা প্রতি কেজিতে ১০ মাইক্রোগ্রাম।
এদিকে, বারবার ব্যবহারের ফলে হাঁড়ি থেকে খাবারে সিসা মেশার পরিমাণ কমলেও তা নিরাপদ মাত্রার নিচে নেমে আসে না। পুরোনো সাতটি হাঁড়ির মধ্যে ছয়টি থেকেও ভাতে সিসা মিশতে দেখা গেছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হাঁড়িও ঝুঁকিমুক্ত নয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে হাঁড়ি পরিষ্কার করলে খাবারে সিসার পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে ধাতব খুন্তি বা চামচ ব্যবহারের কারণেও খাবারে সিসা স্থানান্তরের ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষকদের মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার শিশুরা এসব হাঁড়িতে রান্না করা ভাত খাওয়ার মাধ্যমে এফডিএর নির্ধারিত মাত্রার পাঁচ গুণেরও বেশি সিসা গ্রহণ করতে পারে। তবে এটি শিশুদের শরীরে সরাসরি সিসার মাত্রা পরিমাপ করে পাওয়া ফল নয়; গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি অনুমান।
গবেষকেরা রান্নায় অ্যাসিডিক খাবার এ ধরনের হাঁড়িতে না রান্না করা এবং স্টিলের তারের মাজুনি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এসব সতর্কতা দূষিত হাঁড়িকে নিরাপদ করে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, রক্তে সিসার এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়।
গবেষকেরা স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ির জন্য নিরাপত্তামান নির্ধারণ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মাধ্যমে নিয়মিত পরীক্ষা এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত পুরোনো ধাতব সামগ্রীর মান যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উৎপাদকদের নিরাপদ উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় পাওয়া ফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও নমুনার সংখ্যা সীমিত। তাই এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
এমপি/ আরআই