ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ক্লিনিক থেকে নবজাতক ‘নিখোঁজ’, পেট সেলাই না করে ভিডিও ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫:৩২, ০৬-১১-২০২৬

ক্লিনিক থেকে নবজাতক ‘নিখোঁজ’, পেট সেলাই না করে ভিডিও ধারণ

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

নওগাঁর একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একটিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অপরটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবারকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেছেন নবজাতকের বাবা। প্রসূতির অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর তার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।

গতকাল (৫ নভেম্বর) বিকেলে নওগাঁ শহরের বলাকা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। উভয় প্রতিবেদনে গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ ও তাদের হৃদস্পন্দন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুই ভ্রূণের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার বলা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে তাদের হৃদস্পন্দন যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার এবং সম্ভাব্য ওজন ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম উল্লেখ করা হয়।

শান্ত ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তার স্ত্রীকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রসূতি শান্তনা আক্তার বলেন, ‘অপারেশনের আগে থেকেই জানতাম আমার গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু অপারেশন শেষে আমাকে শুধু একটি মেয়ে সন্তান দেখানো হয়। এ নিয়ে আমার পরিবার প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। এমনকি আমার পেটের কাটা সেলাই না করেই প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়।’

তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলা হয়, বিষয়টি মেনে না নিলে তাকে ওই অবস্থায় ফেলে রাখা হবে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও কাঁপুনি শুরু হলে ভয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের শর্ত মেনে দ্রুত সেলাই করার অনুরোধ জানান। এরপর চিকিৎসক রাগারাগি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে তার পেটের কাটা অংশ সেলাই করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শান্তনা আক্তার বলেন, ‘আমি আমার দুটি সন্তানকেই ফিরে পেতে চাই।’

এদিকে, অপর নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে আর্থিক প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ করেছেন শান্ত ইসলাম।

বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক জানান, ডা: মাহফুজার পরামর্শেই রোগী ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন এবং ওই চিকিৎসক নিজেই অস্ত্রোপচার করেছেন। বাচ্চা একটি না দুটি, তা কেবল ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নবজাতকের বাবা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন