শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫:৪৫, ১৬-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গবেষণায় ইনসুলিন ব্যবহার করেন না—এমন টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ২৮৩ জন প্রাপ্তবয়স্ককে ছয় মাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের একদলকে ডেক্সকম জি৭ কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং ডিভাইস ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। অন্য দলটি প্রচলিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে।
গবেষণায় দেখা যায়, ডিভাইস ব্যবহারকারীদের গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন বা এইচবিএ১সি মাত্রা ৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে, প্রচলিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এ মাত্রা ৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশ হয়। এইচবিএ১সি পরীক্ষার মাধ্যমে গত কয়েক মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
গবেষকদের হিসাবে, ব্যক্তিগত ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পর সিজিএম ব্যবহারকারীদের এইচবিএ১সি মাত্রা প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণকারীদের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি কমেছে। এ ছাড়া ডিভাইস ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন রক্তে শর্করার কাঙ্ক্ষিত মাত্রা—প্রতি ডেসিলিটারে ৭০ থেকে ১৮০ মিলিগ্রাম—এর মধ্যে গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বেশি সময় কাটিয়েছেন।
গবেষণায় বয়স, লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয়, শারীরিক ভরসূচক (বিএমআই), আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ ব্যবহারের ভিন্নতা সত্ত্বেও এ সুবিধা দেখা গেছে। গবেষণা শেষে ৯৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ডিভাইসটি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছিলেন।
গবেষণাটির প্রধান গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় অবস্থিত জেব সেন্টার ফর হেলথ রিসার্চের চিকিৎসক রয় বেক বলেন, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে একই ধরনের সুফল পাওয়ায় ইনসুলিনের প্রয়োজন হওয়ার আগেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ডিভাইসটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেক্সকমের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকদের মতে, এ ফলাফল ইনসুলিন ব্যবহার করেন না—এমন টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণের ভূমিকা আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
এমপি/ আরআই