শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২:৩২, ০২-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গবেষক মার্টিন ফুসেনেগারের নেতৃত্বে তৈরি যন্ত্রটি তার ছাড়াই কাজ করে। এতে রয়েছে গ্রাফাইটের তন্তু দিয়ে তৈরি বিশেষ উপাদান, যার ওপর সোনা ও প্লাটিনামের অতি ক্ষুদ্র কণা লাগানো আছে। এই উপাদান রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজকে গ্লুকোনেটে পরিণত করতে সহায়তা করে। যন্ত্রটিতে কোনো জীবিত কোষ বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।
যন্ত্রটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বাহুতে পরার একটি বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করা হয়। খাবার খাওয়ার পর রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে গেলে সেন্সরটি মোবাইল ফোন বা স্মার্টঘড়িতে সংকেত পাঠায়। এরপর শরীরে স্থাপন করা ইমপ্লান্টটি চালু হয়।
ইমপ্লান্টের বিশেষ উপাদান গ্লুকোজকে গ্লুকোনেটে রূপান্তর করে। গ্লুকোনেট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং পরে প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। রক্তে চিনির মাত্রা নির্ধারিত সীমায় ফিরে এলে যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, যন্ত্রটি টানা ছয় সপ্তাহ রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। এ সময় ইঁদুরগুলোর ওজনও কমেছে। পাশাপাশি যন্ত্রটি ব্যবহারের কারণে তাদের শরীরের কোনো কলায় ক্ষতির লক্ষণ দেখা যায়নি।
গবেষকদের ধারণা, শরীরে অতিরিক্ত গ্লুকোজ চর্বি হিসেবে জমার পরিমাণ কমাতে পারায় যন্ত্রটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পাশাপাশি স্থূলতা নিয়ন্ত্রণেও কাজে লাগতে পারে। ভবিষ্যতে এটি কার্যকর প্রমাণিত হলে প্রতিদিন ওষুধ খাওয়া বা ইনজেকশন নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
এমপি/ আরআই