ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৬ কার্তিক ১৪৩৩, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন এআই মডেল আনছে মাইক্রোসফট-মায়ো ক্লিনিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩:১৫, ০৬-০৯-২০২৬

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন এআই মডেল আনছে মাইক্রোসফট-মায়ো ক্লিনিক

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

রোগী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল আনার ঘোষণা দিয়েছে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট ও যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক চিকিৎসাকেন্দ্র মায়ো ক্লিনিক। মডেলটি চিকিৎসা তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারবে।

সংস্থা দুটি জানিয়েছে, মডেলটিতে মায়ো ক্লিনিকের চিকিৎসা জ্ঞান, পরিচয় গোপন রাখা স্বাস্থ্য তথ্য ও রোগী পরিচর্যার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মাইক্রোসফটের এআই, ক্লাউড ও প্রকৌশলগত সক্ষমতা একত্র করা হবে।

মায়ো ক্লিনিকের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডা: জিয়ানরিকো ফারুগিয়া বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য উদ্ভাবন, যুগান্তকারী সাফল্য এবং আরোগ্যকে ত্বরান্বিত করা। মডেলটি মায়ো ক্লিনিক ও মাইক্রোসফট অ্যাজুর ফাউন্ড্রি এপিআইয়ের মাধ্যমে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যাজুর ফাউন্ড্রি এপিআই এমন একটি সফটওয়্যার টুল, যার মাধ্যমে ডেভেলপার ও প্রতিষ্ঠানগুলো মডেলটিকে নিজেদের অ্যাপ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

মাইক্রোসফট এআইয়ের সিইও মুস্তফা সুলেমান বলেন, ‘অগ্রণী চিকিৎসা বুদ্ধিমত্তা’ খুব শিগগিরই আসছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের দিকে গতি ত্বরান্বিত করতে এর চেয়ে ভালো সহযোগিতা কল্পনা করা যায় না।

মডেলটি প্রাথমিকভাবে মায়ো ক্লিনিকের চিকিৎসা পরিবেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাস্তব ব্যবহারের মাধ্যমে এটি পরীক্ষা ও পরিমার্জন করা হবে। তবে বর্তমানে এটি কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কোন কোন চিকিৎসাক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে, চিকিৎসাক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও এর ব্যবহারে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। রোগীর স্বাস্থ্য ইতিহাস, ব্যক্তিগত তথ্য ও ক্লিনিক্যাল ডেটা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এআই আইন অনুযায়ী, চিকিৎসাসংক্রান্ত এআই সফটওয়্যারকে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এ ধরনের প্রযুক্তিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, উচ্চমানের ডেটা এবং মানুষের কার্যকর তদারকির মতো কঠোর শর্ত মানতে হয়।

স্বাস্থ্যসেবা এআইয়ের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্রুত বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ নির্ণয়ে সহায়তা, জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজের চাপ কমাতে এ প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নির্ভুলতা, পক্ষপাত, গোপনীয়তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন