শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:১২, ১৩-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্যাথলজি বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। অনেককে পরীক্ষা করাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দ্রুত ও কম খরচে রক্ত পরীক্ষার সুবিধা দিতে ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে হাসপাতালটিতে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়। তবে স্থাপনের এক মাস পরই রিএজেন্ট সংকটে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
রোগীদের স্বজন দীপু বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শুধু আমি নই, আমার মতো অনেকেই সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছেন। তিন ঘণ্টা পর চিকিৎসকের কক্ষে ঢোকার সুযোগ পেয়েছি। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসককে দেখাতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। দ্রুত রিপোর্ট পেলে হয়তো চিকিৎসককে দেখাতে পারতাম।’
সদর হাসপাতালে দুই দিন ধরে জ্বর নিয়ে ভর্তি রয়েছেন বেগুনবাড়ি এলাকার রনজু আলী। তিনি বলেন, ‘আমি ভালোভাবে হাঁটতে পারি না। জ্বরে আমার অবস্থা অনেক খারাপ। ডাক্তার অনেক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিছু পরীক্ষা এখানে করিয়েছি, আর কিছু বাইরে থেকে করাতে হবে। শুনেছি এখানে রক্ত পরীক্ষার মেশিন আছে, তবে এটি বন্ধ। বাইরে পরীক্ষা করাতে ৫০০ টাকা চেয়েছিল। অনেক অনুরোধ করার পর ৪০০ টাকায় করিয়েছি। এখানে রক্ত পরীক্ষা করা গেলে টাকা বেঁচে যেত। অসুস্থ অবস্থায় আমাকে বাইরে যেতে হতো না। আমরা চাই রক্ত পরীক্ষার মেশিনটি দ্রুত সচল করা হোক।’
সদর উপজেলার ভুল্লি থেকে আসা রোগীর স্বজন রোকেয়া বেগম বলেন, ‘রোগীর সেবা করব, নাকি পরীক্ষা করাতে দৌড়াব? ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে ফিরে আসতে আসতে আবার ডাক্তার থাকেন না। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের পর বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা চেম্বার ছেড়ে চলে যান। এতে একদিকে যেমন সময় ব্যয় হচ্ছে অন্যদিকে ভোগান্তি বাড়ছে। বেশির ভাগ সময় পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসককে দেখাতে এক দিন পর যেতে হয়। এসব সমস্যার সমাধান চাই আমরা।’
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার জমিদারপাড়ার বাসিন্দা জনি রহমান বলেন, সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে এবং সেবার মানও বেড়েছে। তবে অনেক পরীক্ষার মেশিন থাকলেও জনবল সংকটে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বেশির ভাগ পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়, এতে খরচও বাড়ে। হাসপাতালে পরীক্ষা করা গেলে দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসককে দেখানো সম্ভব হতো।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব ইনচার্জ) ফণীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, হাতে পরীক্ষা করতে যেখানে টেকনোলজিস্টদের প্রায় এক ঘণ্টা লাগে, সেখানে হেমাটোলজি অ্যানালাইজার মেশিনে মাত্র দুই মিনিটে রিপোর্ট পাওয়া যায়। তার ভাষ্য, মেশিনটির মাধ্যমে শতভাগ নির্ভুল রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, হাতে করা পরীক্ষায় নির্ভুলতার হার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে এ মেশিনে এক হাজার থেকে দেড় হাজার রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা সম্ভব। তবে রিএজেন্টের অভাবে এটি চালু করা যাচ্ছে না। স্থাপনের এক মাস পরই মেশিনটি বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা: নূর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, রক্ত পরীক্ষা করাতে গিয়ে রোগীরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন। রিএজেন্ট সংগ্রহের জন্য দরপত্র দেওয়া হয়েছে। রিএজেন্ট পাওয়া গেলে মেশিনটি আবার চালু করা হবে।
এমপি/ আরআই