শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৫৪, ১২-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে হাসপাতালটিতে অভিযান শুরু করেন দুদকের ফরিদপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মুস্তাফিজ বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হয়রানি ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো এবং আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন ফরিদপুর কার্যালয় থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে আমরা বিস্তারিত জানাব এবং অভিযানে যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, সে তথ্য আমাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী কার্যক্রম চালিত হবে।
হাসপাতালটিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি মৃত্যুর ঘটনা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্যে গত ৫ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিন বছরের শিশু সাফা মারওয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ট্রলি না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্বজনদের দাবি, ট্রলি চাইলে টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে না পারায় শিশুটিকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইনসহ জরুরি বিভাগে ছুটতে হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা রবিন শেখ অভিযোগ করেন, সংকটাপন্ন অবস্থায় মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার পর এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে নিতে ট্রলি পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে মেয়েকে ঢাকায় নেওয়ার পথে হারান তিনি।
তবে টাকা না দেওয়ায় ট্রলি দেওয়া হয়নি—স্বজনদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ট্রলিতে নিতে নিষেধ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সিজারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগ ওঠে বীথি আক্তারের চিকিৎসায়। পরিবারের দাবি, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
গত ১৫ জুলাই দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়। তবে ততদিনে পেটের নাড়িতে পচন ও সংক্রমণ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ অক্টোবর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ অক্টোবর সকালে তার মৃত্যু হয়।
বীথির চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু।
এদিকে, হাসপাতালটিতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, রোগীদের হয়রানি এবং আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। অভিযানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এমপি/আরআই