শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১:৪৬, ১৩-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
অনুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়ায় সরকারি কর্মস্থল হলেও ডা: মোস্তাকিম বিল্লাহ জনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের একাধিক বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখেন এবং অস্ত্রোপচার করেন। সম্প্রতি ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে পাইলসের অস্ত্রোপচার করতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত এক বিশেষজ্ঞ সার্জন অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসক হয়ে তার অস্ত্রোপচার করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে দুই চিকিৎসকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, জটিল অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অ্যানেস্থেসিয়া, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলের উপস্থিতি রোগীর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: এ বি এম জাফর সাদিক বলেন, অ্যানেস্থেসিওলজি ও সার্জারি একই সঙ্গে করার সুযোগ নেই। একজন চিকিৎসক যে বিষয়ে ডিগ্রি করবেন তাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই কাজ করতে হবে। অ্যানেস্থেসিয়ার ডিগ্রি থাকলে একই সঙ্গে জেনারেল সার্জারির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো চিকিৎসকের অ্যানেস্থেসিওলজি ও জেনারেল সার্জারি—দুটি বিষয়েই ডিগ্রি থাকলেও একই সময়ে একই রোগীর ক্ষেত্রে দুই ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কারণ অ্যানেস্থেসিয়ার সময় রোগীর রক্তচাপ বা অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে অস্ত্রোপচারে রক্তপাত বা অঙ্গের ক্ষতি হলে একজন চিকিৎসকের পক্ষে দুই ধরনের জটিলতা সামলানো কঠিন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ডা: মোস্তাকিম বিল্লাহ নিয়মিত জটিল অস্ত্রোপচার করেন—এমন তথ্য তাদের জানা নেই। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মজিদুল ইসলাম জানান, তিনি অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের কনসালট্যান্ট এবং অপারেশন টিমের সদস্য। তবে তিনি সার্জন হিসেবে কাজ করেন কি না, তা তার জানা নেই। হাসপাতালে সাধারণত তিনি সার্জারি করেন না।
বগুড়া বিএমএর সদস্যসচিব ডা: আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট বা অবচেতনবিদ একই সঙ্গে একজন রোগীর অ্যানেস্থেসিয়া ও সার্জারি—দুটোই করতে পারেন না। কেউ এমন করলে তা অনৈতিক চর্চা এবং এ জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
বগুড়া বিএমএর আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা: আজফারুল হাবিব রোজ বলেন, যেকোনো চিকিৎসককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। এমবিবিএস চিকিৎসকের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকলে সীমিত কিছু সার্জারি করার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই। তবে একই সঙ্গে অ্যানেস্থেসিওলজি ও সার্জারির দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোস্তাকিম বিল্লাহ জনি বলেন, ‘আমি এমবিবিএস ডাক্তার। আমি সব করতে পারি। কোনটা পারি না, সেটা আমাকে জানান। আমি অ্যানেস্থেসিয়ার ডাক্তার হয়ে সার্জারি করতে পারব না, এমন কথা কোথাও লেখা থাকলে আমাকে দেখান। আমি বলছি, আমি সব করতে পারি এবং আমাকে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সার্জারির বিষয়ে আমার ডিগ্রি এমবিবিএস। আমি পাইলস থেকে শুরু করে সব ধরনের অপারেশন করতে পারি। মেডিকেল সায়েন্সের আইন জানতে হলে সিভিল সার্জনের কাছ থেকে জানবেন।’
এ বিষয়ে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া বিশেষায়িত মেজর সার্জারি করা অনৈতিক।
এমপি/ আরআই