ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ঝাড়ু হাতে হাসপাতাল পরিষ্কারে নামলেন আরএমও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:৪৮, ১৩-১০-২০২৬

ঝাড়ু হাতে হাসপাতাল পরিষ্কারে নামলেন আরএমও

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিজেই ঝাড়ু হাতে নেমেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মো. শিমুল তালুকদার। নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, দেয়াল ও টয়লেটের বেসিন পরিষ্কারে কাজ করছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও বিকেলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন আরএমও। কোথাও ময়লা-আবর্জনা বা অপরিচ্ছন্নতা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ডেকে বুঝিয়ে দেন। প্রয়োজনে নিজেই পরিষ্কারের কাজ করে দেখিয়ে দেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানান, আরএমওর নিয়মিত তদারকি ও আন্তরিক আচরণে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরেছে। কর্মীদের কেউ কাজে গাফিলতি করলে তাকে বুঝিয়ে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও কাজে আরও মনোযোগী হয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ৪২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ১৭ জন। প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী কম থাকায় দায়িত্ব পালনরতদের ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের উৎসাহিত করে দলগতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন আরএমও।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধ থাকলেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আগের তুলনায় পরিবেশ পরিষ্কার থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন তারা।

হাতের সমস্যার চিকিৎসা নিতে আসা মো. গোলাম, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আসা সেলিম সরকার ও ছেলের চিকিৎসার জন্য আসা মোছা. বৃষ্টি বলেন, ‘এই হাসপাতালে আগে খুব দুর্গন্ধ ছিল। তবে এখন সেই দুর্গন্ধ নেই। আবার হাসপাতাল আগের চেয়ে তুলনামূলক পরিষ্কার। যদি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে তবে আমরা উপকার পাবো। আবার অতি সহজে ডাক্তার দেখাতে পারলাম। এটি অব্যাহত থাকুক।’

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে হাসপাতালে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী পারুল রানী বলেন, ‘আমি ২৬ বছর ধরে এখানে কর্মরত আছি। বর্তমানে আমাদের পেছনে আরএমও স্যার সবসময় লেগে থাকেন। তিনি তিনবেলা এসে পরিদর্শন করেন। তার ব্যবহার ও মুখের ভাষা এতটা সুন্দর যে আমরা স্বেচ্ছায় কাজ করি। তিনি যত কঠিন কাজ করতে বলেন, আমরা পারব।’

আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জয়রাম বাসফর বলেন, ‘আমরা যখন ঝাড়ু দিই, মাঝে মাঝে স্যার এসে দেখেন। এমন হয়, ঝাড়ু ঠিক মতো দেওয়া না হলে তিনি নিজেই ঝাড়ু নিয়ে পরিষ্কার করা শুরু করেন।’

হাসপাতালের সহকারী ওয়ার্ড মাস্টার মো. সেলিম বলেন, ‘আমরা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তবে গত ৩ মাস ধরে আরএমও স্যারের নির্দেশনায় আমরা একটি টিম ওয়ার্ক করে কাজ করছি। এই কাজটি প্রতিদিন করা হচ্ছে। আগের চেয়ে হাসপাতাল অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে।’

আরএমও ডা: মো. শিমুল তালুকদার বলেন, ‘আমার লক্ষ্য শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা নয়, রোগীদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট থাকায় যারা কাজ করছেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে নিয়ে দলগতভাবে কাজ করছি। আমি নিজে কাজ করলে তারাও উৎসাহ পান। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, ‘হাসপাতাল সবার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা প্রয়োজন। আমাদের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শিমুলকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসবের বাইরেও তিনি পুরো হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য টিম বানিয়ে কাজ করছেন। আবার তিনি নিয়মিত রোগীও দেখছেন। এই হাসপাতালে পরিচ্ছন্নকর্মী ও ডাক্তারের সংকট রয়েছে। তিনি দুটো কাজেই সহযোগিতা করছেন। আমার জানা মতে, দেশে হয়ত এমন মেডিকেল অফিসার কোনো হাসপাতালেই নেই।’

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন