ঢাকা, রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

১৭ কার্তিক ১৪৩৩, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

জিয়ানগর হাসপাতালে নেই ডেঙ্গু কর্নার, বন্ধ সিবিসি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:৩৪, ০১-১১-২০২৬

জিয়ানগর হাসপাতালে নেই ডেঙ্গু কর্নার, বন্ধ সিবিসি পরীক্ষা

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। তবে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নেই ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার বা ওয়ার্ড। ফলে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই কক্ষে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। এর মধ্যে হাসপাতালটিতে বন্ধ রয়েছে সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষাও। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে সাধারণ ও ডেঙ্গু রোগী মিলিয়ে প্রায় ৪৫ জন ভর্তি রয়েছেন। জিয়ানগর উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

পিরোজপুর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মাসে জেলায় বিভিন্ন বয়সের ৪ হাজার ৬১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৪১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। বর্তমানে জিয়ানগর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ানগর হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৫ জন।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীরা পাশাপাশি শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। দিনের অধিকাংশ সময় ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ছাড়াই থাকতে দেখা যায়। এতে সাধারণ রোগীদের মধ্যেও ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উত্তর ভবানীপুর গ্রামের সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমি টাইফয়েডের রোগী। এখানকার অনেক ডেঙ্গু রোগী মশারি টানান না, দিনের বেশির ভাগ সময় মশারি খোলা রাখেন। এতে আমাদের ভয় হয়, আমাদেরও ডেঙ্গু হতে পারে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, একটি ডেঙ্গু কর্নার করা হলে সাধারণ রোগীরা কিছুটা নিরাপদ থাকতে পারব।’

পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরার ২২ দিনের অবরোধ থাকায় ট্রলারের কাজ করছিলেন। হঠাৎ জ্বর আসায় হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু প্রতিদিন সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করাতে হয়, যা এই হাসপাতালে হয় না। তাই বাইরে গিয়ে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।’

পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জের চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো কর্নার নেই। ডায়রিয়া ও অন্যান্য সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি রাখা হচ্ছে। এতে আমরা শঙ্কিত। কারণ, ডেঙ্গু রোগীরা ঠিকমতো মশারিও টাঙাচ্ছেন না। দ্রুত এখানে একটি ডেঙ্গু কর্নার করে তাদের আলাদাভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: আকাশ সাহা বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ যাচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ডেঙ্গু মোকাবিলা করে যাচ্ছি। ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট ঠিক আছে কি না, তা দেখতে সিবিসি পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। বর্তমানে যন্ত্রটি না থাকায় এ পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা দ্রুত এটি চালুর চেষ্টা করছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, দ্রুতই ডেঙ্গুর আলাদা কর্নার চালু করা হবে।’

জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ননী গোপাল রায় বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের মশারি দেওয়া হয়েছে এবং বারবার তা টানিয়ে রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু রোগী সচেতনতার অভাবে মশারি খোলা রাখেন। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে এবং রোগীদের সচেতন করা হচ্ছে।’

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা: মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘জেলায় ডেঙ্গুর প্রভাব বেড়েই চলেছে। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে আমরা সচেতনতামূলক সভা চালিয়ে যাচ্ছি। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালের আশপাশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সচেতনতা এবং এডিস মশা দমন জরুরি।’

এমপি/ আরআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন