শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫:৪৭, ০৭-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ড. মুশতাক হোসেন বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তাই প্রতিটি বৃষ্টির পরই মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট জৈবিক চক্র অনুসরণ করে। এডিস মশার ডিম তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে লার্ভায় এবং সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক মশায় পরিণত হয়। তাই প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব।
আইইডিসিআরের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া। অথচ জ্বরের শুরুতেই বিনামূল্যে পরীক্ষা ও দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, প্রবীণ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল কিংবা মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। এতে রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগার মেশিনে ধোঁয়া ছড়ানো বা মৌসুমি অভিযান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. মুশতাক বলেন, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদে জমে থাকা পানি, খোলা ড্রাম, ফুলের টব, ভাঙা পাত্র এবং পরিত্যক্ত যানবাহনে নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণকারীদের নিরাপদ লার্ভানাশক ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহেরও পরামর্শ দেন তিনি।
ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু ঢাকার সমস্যা নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করে ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে।
এমপি/ আরআই