ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম

Scroll
চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গর্বের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Scroll
বাংলাদেশের চিকিৎসক-নার্সদের প্রশিক্ষণ দিতে চায় পাকিস্তান
Scroll
বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি বাড়াতে চায় কেনিয়া
Scroll
ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু
Scroll
হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
Scroll
অসহায় পরিবারকে ঘর, চিকিৎসা সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
Scroll
গ্রাম-শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Scroll
চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন
Scroll
ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ গড়ে তোলা হবে: ড. জিয়াউদ্দিন
Scroll
প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হচ্ছে ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
Scroll
টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী-বিজিবি
Scroll
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট
Scroll
নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মশার লার্ভা নিধনে ব্যর্থ ওষুধ, ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:২৩, ১৪-১০-২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২, ১৪-১০-২০২৬

মশার লার্ভা নিধনে ব্যর্থ ওষুধ, ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

মশার লার্ভা নিধনে সরবরাহ করা ওষুধের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম আর এন্টারপ্রাইজের কার্যাদেশ বাতিল করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। একই সঙ্গে সরবরাহ করা ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

গতকাল (১৩ অক্টোবর) কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড সরবরাহ করে এম আর এন্টারপ্রাইজ। ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদদের উপস্থিতিতে ওষুধটির মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়। এতে ওষুধ প্রয়োগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ লার্ভার মৃত্যু হয়। পরীক্ষার এ ফল সন্তোষজনক না হওয়ায় কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কেসিসি।

কেসিসির চিঠিতে বলা হয়, অনুমোদিত কমিটির মাধ্যমে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়। এতে লার্ভার মৃত্যুর হার ১২ শতাংশ পাওয়া যায়, যা সন্তোষজনক নয়। এ কারণে কার্যাদেশ বাতিল করে সরবরাহ করা ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ড. মো. মাহবুবুর রহমান গাজী। তিনি বলেন, ‘দরপত্রের শর্তে এটি ছিল না এবং কেসিসির ওষুধ পরীক্ষার পদ্ধতি সঠিক ছিল না। আমরা নতুন করে পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিলাম। এ নিয়ে আলোচনাও চলছিল। এখন হঠাৎ করে কার্যাদেশ বাতিল করায় আমাদের আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’

এর জবাবে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘দরপত্রের অন্যতম শর্ত ছিল মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ওষুধের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হবে। কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষাতেই তারা ফেল করেছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রতিবছর একাধিকবার এভাবেই মশার ওষুধ পরীক্ষা করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদ ও রাসায়নিক বিশেষজ্ঞদের সামনেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে ওষুধ পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল সবাই দেখেছে এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।’

এদিকে মশার ওষুধের মজুত কমে আসায় দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেসিসি। গতকাল বিকেলে সংস্থাটির পরিচালনা কমিটির সভায় ডিপিএম পদ্ধতিতে নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে এক হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার সিদ্ধান্ত হয়। নতুন ওষুধের প্রতি লিটারের দাম ৪ হাজার ৪০০ টাকা, যেখানে বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধের প্রতি লিটারের দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা। তবে সরবরাহের আগে নতুন ওষুধের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হবে।

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আগের ঠিকাদারের পক্ষে অনেকে তদবির করেছেন, কিন্তু ভেজাল ওষুধ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। মানুষের জীবন নিয়ে আমরা ছেলেখেলা করতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ওষুধের মজুত কমে আসায় দ্রুত কেনাকাটার জন্য বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারাও এই ওষুধ ব্যবহার করছে। দামের বিষয়টি নিয়ে আবারও বৈঠক করা হবে।

এ ছাড়া উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য নতুন ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়েও পরীক্ষা চালিয়েছে কেসিসি। বিকেলে নগরের কেসিসির গ্যারেজে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশক বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে এ পরীক্ষা করা হয়।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন