ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম

Scroll
চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গর্বের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Scroll
বাংলাদেশের চিকিৎসক-নার্সদের প্রশিক্ষণ দিতে চায় পাকিস্তান
Scroll
বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি বাড়াতে চায় কেনিয়া
Scroll
ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু
Scroll
হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
Scroll
অসহায় পরিবারকে ঘর, চিকিৎসা সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
Scroll
গ্রাম-শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Scroll
চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন
Scroll
ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ গড়ে তোলা হবে: ড. জিয়াউদ্দিন
Scroll
প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হচ্ছে ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
Scroll
টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী-বিজিবি
Scroll
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট
Scroll
নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নবজাতক চুরির পর জানা গেল হাসপাতালের ২০টি ক্যামেরাই অচল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫:৩২, ১৪-১০-২০২৬

নবজাতক চুরির পর জানা গেল হাসপাতালের ২০টি ক্যামেরাই অচল

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৩৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ২০টিই অচল। গুরুত্বপূর্ণ এসব ক্যামেরা নষ্ট থাকায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সী এক নবজাতক চুরির ঘটনার তদন্তে ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্যামেরাগুলোর এ অবস্থা সামনে আসে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগ, দ্বিতীয় তলা, লিফটের সামনে ও জরুরি বিভাগের ভেতরে কয়েকটি ক্যামেরা সচল রয়েছে। তবে প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানের ক্যামেরা অচল। দালালদের আনাগোনা ও রোগীদের যাতায়াত বেশি—এমন এলাকাতেও ক্যামেরা কাজ করছে না।

নবজাতক চুরির ঘটনার ফুটেজ পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের প্রধান ক্যামেরাটিও নষ্ট। ফলে ওই এলাকার প্রয়োজনীয় ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এতে নবজাতককে নিয়ে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা জটিলতায় পড়েছেন।

হাসপাতালের মতো জনবহুল প্রতিষ্ঠানে রোগী, নবজাতক, স্বজন ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অধিকাংশ ক্যামেরা অচল থাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালকে ঘিরে দালালচক্র, চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, বিভিন্ন অনিয়ম ও ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ থাকায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন কাজ গণপূর্ত বিভাগ করে। ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ওই বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেট না থাকায় কাজ হচ্ছে না। জেলা পরিষদকেও ক্যামেরা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। নবজাতক চুরির ঘটনার অনেক আগে থেকেই কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৩৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও কয়েকটি সচল নয়। নবজাতক চুরির ঘটনার সব ফুটেজ পাওয়া যায়নি। যে ফুটেজ পাওয়া গেছে, তার একটিতে নবজাতককে নিয়ে এক নারীকে চলে যেতে দেখা যায়, তবে দৃশ্যটি স্পষ্ট নয়। অন্য ক্যামেরাগুলোতে ঘটনার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে তদন্ত আরও সহজ হতো।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সী এক ছেলে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এক নারীকে নবজাতক কোলে নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০টি ক্যামেরা অচল থাকার বিষয়টি সামনে আসায় দ্রুত ক্যামেরাগুলো সচল করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের দাবি জোরালো হয়েছে।

এমপি/ আরআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন