শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫:৩২, ১৪-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগ, দ্বিতীয় তলা, লিফটের সামনে ও জরুরি বিভাগের ভেতরে কয়েকটি ক্যামেরা সচল রয়েছে। তবে প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানের ক্যামেরা অচল। দালালদের আনাগোনা ও রোগীদের যাতায়াত বেশি—এমন এলাকাতেও ক্যামেরা কাজ করছে না।
নবজাতক চুরির ঘটনার ফুটেজ পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের প্রধান ক্যামেরাটিও নষ্ট। ফলে ওই এলাকার প্রয়োজনীয় ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এতে নবজাতককে নিয়ে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা জটিলতায় পড়েছেন।
হাসপাতালের মতো জনবহুল প্রতিষ্ঠানে রোগী, নবজাতক, স্বজন ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অধিকাংশ ক্যামেরা অচল থাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালকে ঘিরে দালালচক্র, চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, বিভিন্ন অনিয়ম ও ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ থাকায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন কাজ গণপূর্ত বিভাগ করে। ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ওই বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেট না থাকায় কাজ হচ্ছে না। জেলা পরিষদকেও ক্যামেরা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। নবজাতক চুরির ঘটনার অনেক আগে থেকেই কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৩৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও কয়েকটি সচল নয়। নবজাতক চুরির ঘটনার সব ফুটেজ পাওয়া যায়নি। যে ফুটেজ পাওয়া গেছে, তার একটিতে নবজাতককে নিয়ে এক নারীকে চলে যেতে দেখা যায়, তবে দৃশ্যটি স্পষ্ট নয়। অন্য ক্যামেরাগুলোতে ঘটনার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে তদন্ত আরও সহজ হতো।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সী এক ছেলে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এক নারীকে নবজাতক কোলে নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০টি ক্যামেরা অচল থাকার বিষয়টি সামনে আসায় দ্রুত ক্যামেরাগুলো সচল করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের দাবি জোরালো হয়েছে।
এমপি/ আরআই