শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭:৪২, ১৪-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। হাইকমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ সাক্ষাৎ করে।
বৈঠকে পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লিভার সেন্টারে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনা মূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উঠে আসে। বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে চা, আনারস ও চিংড়ি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা রেখেছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশের লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এবং সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহের কথাও জানান হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আরও ৩৫ জনের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াধীন।
হাইকমিশনার আরও বলেন, ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার হবে।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এমপি/ আরআই