ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

মাদারীপুরে ৭১ ক্লিনিকের লাইসেন্স আছে মাত্র ৭টির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:১৭, ১৫-১০-২০২৬

মাদারীপুরে ৭১ ক্লিনিকের লাইসেন্স আছে মাত্র ৭টির

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

মাদারীপুরের পাঁচ উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭১টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র সাতটির। অন্যদিকে, ১০৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে অনুমোদন নিয়ে চলছে মাত্র সাতটি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সামনে অনিয়ম চললেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তবে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ-মাদারীপুরের সীমানাবর্তী রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে অবস্থিত টেকেরহাট জেনারেল হাসপাতালের লাইসেন্স ২০২২ সালে বাতিল করে স্বাস্থ্য বিভাগ। নিয়ম না মানা ও শর্ত পূরণে গাফিলতির কারণে লাইসেন্স বাতিল হলেও প্রায় চার বছর ধরে হাসপাতালটির কার্যক্রম চলছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও চিকিৎসকের কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

এদিকে, পাঁচতলার মোড় এলাকায় লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ল্যাব ও হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে দোতলার টিনশেড ঘরে। বাইরে আকর্ষণীয় সাইনবোর্ডে চিকিৎসকদের ছবি ও তথ্য দেওয়া থাকলেও অনেক চিকিৎসক সেখানে বসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, টিনশেড ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার সুযোগ নেই।

টেকেরহাট বন্দরে এক ডজনের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন আছে কি না, তা না জেনেই সেবা নিতে আসছেন রোগীরা। লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন পেতে জটিলতার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।

টেকেরহাট জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ সুজন মৃধা বলেন, ‘লাইসেন্স আছে কি নেই, সেটা আমরা কেউই বলতে পারি না। সেটি জানে মালিকপক্ষ। আমরা শুধু দায়িত্ব পালন করি।’

লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ল্যাব ও হাসপাতালের পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের পূর্বেও লাইসেন্স ছিল। শুধু একবছর আমরা মালিকানা জটিলতায় লাইসেন্স করতে পারি নাই। বর্তমানে নতুন ভবনে হাসপাতালের পুরো কার্যক্রম চালানোর জন্য সরিয়ে নিচ্ছি। আগামীতে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে।’

রোকেয়া হাসপাতাল ও মলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মলি আক্তার বলেন, ‘আমরা লাইসেন্স করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করছি। অনেক দপ্তরের কাগজ লাগে। এজন্য সময়ও লাগছে। হয়তো আগামী মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবদেন করতে পারব।’

স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের বয়স একমাস। লাইসেন্স তো আকাশে থেকে পড়বে না। পেতে সময় লাগে। আমরাও চেষ্টায় আছি, দ্রুত লাইসেন্স করার জন্য।’

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা: শরিফুল আবেদিন কমল জানান, অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। এরই মধ্যে অনুমোদনহীন হাসপাতালের তালিকা তৈরি করেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানান, অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলার সুযোগ নেই। লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করতে সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে দেওয়া হবে না।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন