ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সিজারিয়ানে বিলম্বের অভিযোগ, নবজাতকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:৫১, ১৫-১০-২০২৬

সিজারিয়ানে বিলম্বের অভিযোগ, নবজাতকের মৃত্যু

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

শরীয়তপুরের হাজী শরীয়তউল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে উল্টো অবস্থানে থাকা নবজাতকের প্রসব করাতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে পরিবার।

গতকাল (১৪ অক্টোবর) প্রসববেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৯ বছর বয়সী স্বপ্না বেগম। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার সময়ই জানানো হয়েছিল গর্ভের শিশুটি উল্টো অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

স্বপ্নার মা সালমা আক্তারের ভাষ্য, রাত ১১টার দিকে শিশুটির একটি পা বের হয়ে আসে। পরে ক্লিনিকের দুই নার্স স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির হাত-পা বের হলেও মাথা আটকে যায়। শিশুটিকে বের করতে টানাটানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

সালমা আক্তার বলেন, মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার পরই জানিয়েছিলাম, গর্ভের শিশু উল্টো অবস্থানে রয়েছে। তারা বারবার বলেছে, ডাক্তার এলেই সিজার করা হবে। কিন্তু চার ঘণ্টা পার হলেও ডাক্তার আসেননি। পরে শিশুর পা বের হয়ে গেলে দুই নার্স টানাটানি করেন। একপর্যায়ে শিশুর মাথা আটকে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার সন্তান ও নাতির সঙ্গে যা হয়েছে, তা অবহেলার কারণে হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এর বিচার চাই।

পরিবারের অভিযোগ, রাত ১টার দিকে দুই নার্স জরায়ুর পাশে কেটে শিশুটিকে বের করেন। পরে স্বপ্নার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত আড়াইটার দিকে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক নয়ন সরকার জানান, রাতে তাদের নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। এ ক্ষেত্রে অন্য চিকিৎসক এনে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তার দাবি, অন্য চিকিৎসক আসার সময় শিশুটির পা বের হয়ে গিয়েছিল। পরে ওই চিকিৎসক ঝুঁকি নিতে চাননি বলে চলে যান। এরপর নার্সরা প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। শিশুটি মায়ের পেটেই মারা যায় বলে দাবি করেন তিনি। তবে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) চিকিৎসক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পরিবারেরও অবহেলা থাকতে পারে। তার দাবি, শিশুটি উল্টো অবস্থানে ছিল এবং তার হৃদস্পন্দন কম ছিল। এ তথ্য জানার পরও পরিবারের পক্ষ থেকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করানো হয়নি। তবে প্রসূতির সংকটাপন্ন অবস্থার কথা তাকে সময়মতো জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।

শরিফুল ইসলাম আরও জানান, শিশুটির মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা নার্সরা তাকে বিষয়টি জানাননি। জানালে হয়তো সঠিক পরামর্শ দিতে পারতেন। রাত ১১টার দিকে তাকে জানানো হলে সেখানে গিয়ে শিশুটির পা বের হয়ে থাকতে দেখেন।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা: রেহান উদ্দিন বলেন, ক্লিনিকটির অনুমোদন রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় দপ্তরে পাঠানো হবে। ক্লিনিকের অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন