ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

প্লেগ আতঙ্কে অনলাইনে চিকিৎসা কিট, চিকিৎসকের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২:০৫, ১৫-১০-২০২৬

প্লেগ আতঙ্কে অনলাইনে চিকিৎসা কিট, চিকিৎসকের সতর্কতা

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

রাশিয়ায় নিউমোনিক প্লেগে এক নারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তর আমেরিকায় অনলাইনে সম্ভাব্য চিকিৎসা কিট কেনার প্রবণতা বেড়েছে। প্রায় ৩০০ ডলারের এসব কিটে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ থাকার দাবি করা হচ্ছে। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, সংক্রমণের ঝুঁকি বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার প্রমাণ না থাকলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নারী নিউমোনিক প্লেগে মারা গেছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। তবে রাশিয়া কর্তৃপক্ষ তার প্লেগে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখার পর কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া গোষ্ঠীগুলো অনলাইনে প্রায় ৩০০ ডলারের চিকিৎসা কিট কেনার প্রচার চালাচ্ছে। এসব প্রচারমূলক পোস্টে ব্যক্তিগত ডিসকাউন্ট কোডও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা থেকে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রচারকারীদের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গুগল ট্রেন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এসব ভিডিওতে প্রচার করা ‘দ্য ওয়েলনেস কোম্পানি’ ব্র্যান্ডটি নিয়েও অনলাইনে অনুসন্ধান বেড়েছে। কোম্পানিটির প্রধান মুখপাত্র মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পিটার ম্যাককালো। কোভিড-১৯ নিয়ে তার প্রচারিত কিছু স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এএফপির ফ্যাক্ট-চেকে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ আইজ্যাক বোগোচ বলেন, প্লেগ অত্যন্ত গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে। তবে এ রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের জানা রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যক্তির সংক্রমণের নির্দিষ্ট ঝুঁকি বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার প্রমাণ না থাকলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শুরু করা উচিত নয়। রাশিয়ায় সংক্রমণের যে খবর পাওয়া গেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তার মতে, এটি এমন কোনো সংক্রমণ নয়, যা মহামারি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে, অনলাইনে প্রচারিত কিটগুলোতে ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি আইভারমেকটিনের মতো প্রেসক্রিপশন ওষুধও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইভারমেকটিন সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) নির্দিষ্ট কিছু পরজীবীজনিত রোগের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন অনুমোদন করেছে। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ওষুধটির কার্যকারিতার দাবি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এর কার্যকারিতার দাবি নাকচ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ কেনা বা সেবন না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন