ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

১২ কার্তিক ১৪৩৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় তামাকমুক্ত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:০৯, ২৭-১০-২০২৬

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় তামাকমুক্ত ঘোষণা

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) অধীন সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসব কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

গতকাল (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।

শফিকুল ইসলাম বলেন, খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানটির সেবা নিতে আসা নাগরিকদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আমরা শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় ৭০০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যার মধ্যে প্রায় ২৫০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে ও মৃত্যু ঘটায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকের কারণে প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রাণ হারান।

তিনি আরও বলেন, গ্যাটস এর তথ্যমতে আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২.৭% ও সরকারি কার্যালয়ে ২১.৬% অধূমপায়ী নারী-পুরুষ পরোক্ষ ধূমপানজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে, এর মধ্যে ধূমপান করে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ এবং প্রায় ৪ কোটি মানুষ ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি, ৪২ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। তাই পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সবাইকে রক্ষা করতে সব পাবলিক প্লেস শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে। এ সময় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতি থেকে সবাইকে রক্ষায় ‘সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬’-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বিধিমালা প্রণয়ন বিলম্বিত হলে আইনে অন্তর্ভুক্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলোর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে দেরি হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় এতে আলোচক ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সহকারী ডা: নায়লা পারভিন এবং আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এমপি/ আরআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন