ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

১২ কার্তিক ১৪৩৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, পরীক্ষার অভাবে আটকে আছে চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৫১, ২৬-১০-২০২৬

কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, পরীক্ষার অভাবে আটকে আছে চিকিৎসা

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

বড় ছেলেকে কিডনি দিতে প্রস্তুত মা। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় একটি বিশেষ পরীক্ষা করাতে না পারায় আটকে আছে চিকিৎসাপ্রক্রিয়া। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেও ‘ডিটিপিএ রেনোগ্রাম উইথ স্প্লিট ফাংশন অ্যান্ড জিএফআর’ পরীক্ষাটি করানোর ব্যবস্থা করতে পারছেন না নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের পরিবারের এই সংকটের কথা তুলে ধরেন জুয়েল।

তার বড় ভাই মো. মাসুদুর রহমান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মুন্সিখানপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার। জটিল কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত মাসুদুর রহমানকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধসহ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে পরিবারকে।

জুয়েল জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে বড় ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তার মা কিডনি দাতা হতে সম্মত হয়েছেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ক্রস-ম্যাচসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষ পর্যায়ে এসে দাতার উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ পরীক্ষাটি করাতে না পারায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে আছে।

ভিডিও বার্তায় জুয়েল বলেন, পরীক্ষাটি কোথায় করানো সম্ভব, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছেন না তিনি। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়েও পরীক্ষাটি করানোর ব্যবস্থা করতে পারেননি। এমনকি কবে নাগাদ পরীক্ষাটি করানো সম্ভব হবে, তা-ও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সপ্তাহে দুইটা করে ডায়ালিসিস করতে হচ্ছে। সঙ্গে ওষুধ তো চলছেই একাধারে। তো সেক্ষেত্রে আমরা যদি এই টেস্টটা করাতে পারতাম, তাহলে হয়তবা আমাদের কাজটা আরও সহজ হয়ে যেত।’

জুয়েল জানান, পরীক্ষাটি বিদেশে পাঠিয়ে করানোর সুযোগও নেই। কারণ, এটি শুধু রক্ত বা প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষার বিষয় নয়; কিডনি দাতাকে সরাসরি উপস্থিত থেকে পরীক্ষাটি করাতে হয়।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ গত সপ্তাহে পূজার ছুটির আগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও পরীক্ষাটির বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন। তবে সেখানেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। একই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকা ৮-৯ বছর বয়সী আরেকটি শিশুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না হওয়ায় ওই শিশুটির চিকিৎসাও এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান জুয়েল।

নিজের পরিবারের পাশাপাশি একই সমস্যায় থাকা অন্য রোগীদের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষাটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য সবার নেই। তাই দেশের ভেতরেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জুয়েল বলেন, পরীক্ষাটি অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে তার পরিবারসহ একই সমস্যায় থাকা অন্য রোগীরাও উপকৃত হবেন।

এমপি/ আরআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন