ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

১২ কার্তিক ১৪৩৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শুঁটকিতে মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০৯, ২৬-১০-২০২৬

শুঁটকিতে মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

বাংলাদেশের চার উপকূলীয় এলাকার শুঁটকিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একদল গবেষক। ছয় প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির ২৪টি নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষণায় প্রায় ৯ ধরনের প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী মেরিন পলিউশন বুলেটিনে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আজম খানের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কাজী নুসরাত জাহান ঐশী, হাবিবুর রহমান পিয়াস, নাদিয়া ইসলাম রিয়া ও সানজিদা জুথি যুক্ত ছিলেন।

গবেষণার জন্য শুঁটকি উৎপাদনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—সুন্দরবনের দুবলার চর, কুয়াকাটা, কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনায় ছিল লইট্টা, পোয়া, ছুরি, ফাইস্যা মাছ এবং হরিণা ও বাগদা চিংড়ি।

গবেষণায় শুঁটকিতে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে কুয়াকাটায়। এরপর রয়েছে কক্সবাজার। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিমার হ্যাজার্ড ইনডেক্স অনুযায়ী, কুয়াকাটার শুঁটকিতে সূচকের মান ২ হাজার ৬৪২ দশমিক ৭ এবং কক্সবাজারে ১ হাজার ৪৬১ দশমিক ১। শনাক্ত প্লাস্টিক কণার মধ্যে পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) ও পলিস্টাইরিনের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।

অধ্যাপক আশরাফুল আজম খান জানান, পৌরসভা, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্য থেকে সৃষ্ট প্লাস্টিক কণা উপকূলীয় পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সেখান থেকে মাছের শরীরে এবং পরবর্তী সময়ে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এসব কণা প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অতীতে শুঁটকিতে মাছের লার্ভার আক্রমণ ও অপচয় রোধে ডিডিটি ও নগভসের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রবণতা ছিল। শুঁটকিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির পাশাপাশি এ ধরনের রাসায়নিকের ব্যবহারও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

গবেষকরা বলছেন, শুঁটকি উৎপাদনে স্বাস্থ্যসম্মত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। খোলা জায়গার পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে, সোলার ড্রায়ার বা ছাদযুক্ত স্থানে শুঁটকি শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নিরাপদ প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, এ বিষয়ে ভোক্তাদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি নজরদারি ও কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন