ঢাকা, রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

২৪ কার্তিক ১৪৩৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

হাসপাতালের ইনকিউবেটরে আগুনে দগ্ধ নবজাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:৫৪, ০৮-১১-২০২৬ | আপডেট: ১:৫৬, ০৮-১১-২০২৬

হাসপাতালের ইনকিউবেটরে আগুনে দগ্ধ নবজাতক

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

রাজধানীর চানখারপুলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইনকিউবেটরে আগুন লেগে পাঁচ ঘণ্টা বয়সী এক নবজাতকের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ শিশুটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন শিশুটির বাবা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গতকাল (৭ নভেম্বর) ভোরে চানখারপুলের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপ কিংবা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে নবজাতকটি দগ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শর্ট সার্কিট থেকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

রাব্বানী জানান, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তার সন্তান জন্ম নেয়। জন্মের পরপরই নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢামেক হাসপাতালে এনআইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়ের মাধ্যমে ভোর ৫টার দিকে চানখারপুলের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে নবজাতককে নিয়ে যান তিনি।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আমার ভাতিজা রেজাউলের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখি আমার বাচ্চা যে মেশিনের মধ্যে ছিল, সেটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। আমার বাচ্চার শরীরেও আগুন লেগে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে হাসপাতালের কোনো স্টাফকে পাইনি। সবাই ভয়ে আগেই পালিয়ে গিয়েছিল। পরে আমার ভাতিজাকে নিয়ে অনেক চেষ্টা করে বাচ্চাকে উদ্ধার করি। এরপর হাসপাতালের স্টাফদের নিয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাই।’

রাব্বানীর দাবি, বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে শিশুটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে পাঠান। তবে ঢামেকে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পুনরায় রয়েল কেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে ওই হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের স্টাফরা তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাব্বানী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার পাঁচ ঘণ্টার বাচ্চার শরীর পুড়ে গেল। আমি এই কসাইদের বিচার চাই।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রয়েল কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউতে থাকা মেশিনের ত্রুটির কারণে ইনকিউবেটর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের মাথা, পিঠ ও পায়ের কিছু অংশ পুড়ে ঝলসে যায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, ভোর ৫টার দিকে বাচ্চাটিকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। ভর্তি করার আগেই তাকে এনআইসিইউর বেডে রাখা হয়। তার ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

তিনি আরও জানান, তাদের ধারণা শর্ট সার্কিট থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। এতে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, অন্য বাচ্চাদের স্বজনদের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে মারামারি হয়েছিল।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: তাজকিয়া হক বলেন, বর্তমানে নবজাতকটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। বিষয়টি শিশুটির স্বজনদের বারবার জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। চিকিৎসায় তারা কোনো সহযোগিতা করছেন না। শিশুটির অবস্থা ধীরে ধীরে আরও খারাপ হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, নবজাতকটি বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন