ঢাকা, রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

২৪ কার্তিক ১৪৩৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ডেঙ্গু ঠেকাতে বিশেষ অভিযানে ডিএসসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:৪২, ০৮-১১-২০২৬

ডেঙ্গু ঠেকাতে বিশেষ অভিযানে ডিএসসিসি

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জরিপে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৯টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের আওতায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, নাগরিকরা নিজ আঙিনা ও পানির পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়েই এডিস মশার বিস্তার রোধে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অন্তত সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ডিএসসিসির প্রশাসক জানান, বিশেষ অভিযানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন, খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়েও পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে যৌথ অভিযান চালানো হবে। এরপরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী জরিপে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করেন।

জরিপের তথ্য ও এডিস মশার ঘনত্ব নিরূপণের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টিকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরিদর্শন করা বাড়িগুলোর মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়।

এ সময় বহুতল ও সেমিপাকা ভবন, নির্মাণাধীন ভবন, খালি প্লট এবং বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্লাস্টিকের বালতি, ড্রাম, মগ, ভবনের বেজমেন্ট ও ফুলের টবে জমে থাকা পানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লার্ভা পাওয়া গেছে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন