শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:৫৬, ০৮-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (৭ নভেম্বর) বিকেলে নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় বিএমএর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ জেলা শাখার সভাপতি ডা: ইসকেন্দার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার বলাকা ক্লিনিকে শান্তনা আক্তার নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তার জরায়ু থেকে একটি নবজাতক বের করা হয়। পরে চিকিৎসার নথিতে পাওয়া তিনটি আলট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদনের মধ্যে একটিতে একটি সন্তান এবং অন্য দুটিতে যমজ সন্তানের কথা উল্লেখ ছিল।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রসূতির স্বজনদের ডেকে একটি সন্তান হওয়ার কথা জানানো হয়। প্রসূতিকেও বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হলে তিনি তা মেনে নেন। তবে নবজাতককে বাইরে নেওয়ার পর স্বজনরা দ্বিতীয় সন্তানের খোঁজ জানতে চান এবং একপর্যায়ে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নবজাতক চুরির অভিযোগ তোলেন।
বিএমএর এই নেতা আরও বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদনে ভুলের পেছনে সনোলজিস্ট চিকিৎসক দিনা ও রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায় রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে যন্ত্রপাতির মান ও পরীক্ষা-পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ও এ ধরনের ভুলের কারণ হতে পারে। তাই দায় নির্ধারণের আগে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা: ইসকেন্দার হোসেন। তিনি বলেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিকের একজন ওয়ার্ড বয়কে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আটক করা হয়েছে, যদিও তিনি অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যথাযথ তদন্ত ছাড়াই কোনো ঘটনায় চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ সময় বিএমএ জেলা শাখার সভাপতি ডা: ইসকেন্দার হোসেন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মুক্তার হোসেনসহ বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমপি/ আরআই