শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪:৪৮, ১৯-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
এদিকে হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণে বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আগে সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল নিয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
২০১৮ সালে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার আগেই ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের সর্বশেষ সংশোধিত হিসাব ও বাজেট অনুযায়ী, হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। উদ্বোধনের চার বছর পরও এখানে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি।
হাসপাতালটির পরিচালনা সহজ করা এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গত ২৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন আইনের আওতায় একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে হাসপাতালটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ এবং সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, করপোরেট মডেলে পরিচালিত হলে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা বাড়বে। পাশাপাশি ভালো বেতনে দক্ষ চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া সহজ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল পরিচালনায় দ্রুত আলাদা পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিএমইউ উপাচার্য চেয়ারম্যান এবং একজন উপ-উপাচার্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। করপোরেট হাসপাতাল পরিচালনায় অভিজ্ঞ কাউকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্সসহ সব জনবল বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিএমইউর বর্তমান চিকিৎসক ও নার্সদের সেখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে না। নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ বা প্রাইভেট প্র্যাকটিসও বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরিবর্তে হাসপাতাল থেকে ভালো বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সহায়ক সেবা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে দক্ষ প্রতিষ্ঠানের কাছে আউটসোর্স করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে নতুন জনবল কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় হাসপাতালের বিদ্যমান প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ-পদবি ও কর্মস্থল অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের শুরুতে ধাপে ধাপে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
এদিকে জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন জটিলতা নিরসন এবং হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে বিএমইউ প্রশাসন সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্য সচিব হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা: সাইফ উল্লাহ মুন্সী। কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করলেও এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা: মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সিইওসহ জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া শুরু করব।’
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটি সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক জনবল দিয়ে চলবে। আর বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী। তবে তাদের কোথায় রাখা হবে এটা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আরও আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণে বিভিন্ন ত্রুটি রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা: মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটির ডিজাইন এবং নির্মাণে বেশ কিছু ত্রুটি আছে। নির্মাণের খুবই বাজে অবস্থা। সিলিং খসে খসে পড়ছে। এমনকি শিশুদের জন্য যে ওয়ার্ড বানানো হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত স্পেস নেই। এমন বিভিন্ন সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। অনেক কিছুই সংস্কার করতে হবে। আশা করছি, সব জটিলতা কাটিয়ে খুব দ্রুত হাসপাতালটি চালু করতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে উপাচার্যের কার্যালয় জানিয়েছে, শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এমপি/ আরআই