ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিএমইউতে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২:৫১, ১৯-১০-২০২৬

বিএমইউতে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

ক্যান্সার শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসায় সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ক্যান্সার প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, গবেষণা এবং জাতীয় ক্যান্সার নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

গতকাল (১৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা: মিল্টন হলে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। ‘অ্যাডভান্সিং ক্যান্সার এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড কেয়ার: বিএমইউ’স ভিশন অ্যান্ড লিডারশিপ’ শীর্ষক বৈঠকটির আয়োজন করে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নয়নে শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, দক্ষ জনবল তৈরি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিএমইউতে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও সহযোগী বিশেষায়িত বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনায় ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি ক্লিনিক্যাল অনকোলজি, মেডিকেল অনকোলজি, সার্জিক্যাল অনকোলজি, প্যাথলজি, রেডিওলজি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও মেডিকেল ফিজিকসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড, গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা, আধুনিক রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। পাশাপাশি গবেষকদের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নয়নে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন আলোচকরা। তারা বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট, মেডিকেল ফিজিসিস্ট, রেডিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট ও দক্ষ নার্সিং জনবল নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি।

বৈঠকে ক্যান্সারের প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণ, কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ এবং গবেষণা জোরদারে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ, এইচপিভি টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সারের স্ক্রিনিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্যান্সার গবেষণা, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল ফিজিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসাপ্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। ওষুধশিল্প ও রেডিওথেরাপি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা: মো. শাহিনুল আলম, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা: সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা: মোস্তফা আজিজ সুমন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক এজাজ, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা ক্যান্সার সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব কমানো এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন