ব্রেকিং
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০:২৫, ২৬-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুর সদর হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। একসময় এই হাসপাতাল ছিল স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। তবে ১৯৭৬ সালে রমেক হাসপাতাল চালু হওয়ার পর সদর হাসপাতালের কার্যক্রম ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসে। বর্তমানে পুরোনো ভবনটি ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। সেখানে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করা সম্ভব না হলে নতুন সদর হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি। এতে রমেক হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট রংপুরের সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেন। এতে রংপুর মহানগরীর বাইরে, তবে জেলা সদরের মধ্যে ঈশ্বরপুর ও হরিদেবপুর মৌজায় ২৫০ শয্যার জেলা বা সদর হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। এর আগে একই বছরের ২৬ অক্টোবর তৎকালীন জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রংপুর সদরে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আনার চেষ্টা করেন।
রংপুর সদর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়নে ৭ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। সদর উপজেলা ও আশপাশের এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে একাধিক উদ্যোগের পরও এ বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে, এক হাজার শয্যার রমেক হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী। হাসপাতালটিতে শয্যা অনুযায়ী জনবল রয়েছে মাত্র ৬৫০ শয্যার সমপরিমাণ। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসার পরিবেশ ও সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর পশ্চিম প্রান্তে রমেক হাসপাতালের অবস্থান হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীদের সেখানে পৌঁছাতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে যানজটে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেরি হলে তাদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে রমেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সদর হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সেটি বন্ধ রয়েছে। পুরোনো হাসপাতালটি সংস্কার করে চালু করা সম্ভব না হলে নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এক হাজার শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুরে নতুন সদর হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়ে একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ পুরো বিভাগের মানুষের দাবি। শয্যা ও জনবলসংকটের কারণে একটি সরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নতুন হাসপাতাল নির্মাণের বিকল্প ভাবা উচিত হবে না।
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা: শাহীন সুলতানা বলেন, সদর উপজেলায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য স্থান উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের হাতে এখন কিছু নেই। মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিলে রংপুর সদর হাসপাতাল বা জেলা পর্যায়ের একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা: মো. মেশকাতুল আবেদ বলেন, সিলেট ও বরিশালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি সদর হাসপাতাল রয়েছে। রংপুর বিভাগের আট জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখানেও বড় পরিসরের একটি সদর হাসপাতাল প্রয়োজন।
এমপি/ আরআই