ব্রেকিং
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৪২, ২৬-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (২৫ অক্টোবর) সকালে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (মস্তাননগর) বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
গ্রেফতারকৃরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের জুয়েল মিয়ার স্ত্রী আমেনা খাতুন, মো. আমির হোসেনের স্ত্রী সালমা প্রকাশ তানিয়া বেগম, মো. তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী অজুফা বেগম, মো. জুনাইদের স্ত্রী মোসাম্মৎ হালিমা, বাবু মিয়ার স্ত্রী মোসাম্মৎ শানজিলা প্রকাশ সাদিয়া, মো. রাজুর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের ফজলুল হকের স্ত্রী আমিনা খাতুন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে চোরচক্রের ১০ থেকে ১১ জন নারী সদস্য রোগী সেজে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ান। এ সময় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি সৃষ্টি করেন। সেই সুযোগে চিকিৎসা নিতে আসা তিন নারীর গলা থেকে মোট ১৭ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন চুরি করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা চক্রের সাত সদস্যকে আটক করে পুলিশে দেন। অন্যরা পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মোত্তালেন বলেন, রোগীরা টিকিট নিতে লাইনে দাঁড়ালে চক্রের নারী সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিড় তৈরি করেন। এ সময় কয়েকজন নারীর গলার স্বর্ণের চেইন চুরি করা হয়। বিষয়টি দেখে তাদের আটক করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো. শামীম বলেন, বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় সাত নারীকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, তিন নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন চুরির ঘটনায় সাত নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যরা পালিয়ে গেছেন।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মেলা, সমাবেশ ও বাজারে জনসমাগমের মধ্যে ভিড় করে তাঁরা স্বর্ণের চেইন চুরি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালের বহির্বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এমপি/ আরআই