শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭:৫২, ২৫-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ওলবাকিয়া’ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানবিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বর্তমান বাস্তবতায় ডেঙ্গু একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার মতো জনবহুল শহরে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তাই এ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতা না করে আমাদের অবিলম্বে মাঠে নেমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পাইলট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুধু সভা-সেমিনার বা পডকাস্টে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করার আহ্বান জানান। প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যে কারও সঙ্গে কথা বলে ডেঙ্গু দমনে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। বিজ্ঞানীদের শুধু গবেষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর উপায়ে এ জনস্বাস্থ্য সংকটের দ্রুত সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা এবং সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টার চেয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
বিজ্ঞান সচিব আরও বলেন, বিজ্ঞান ও গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সঠিক পথ ও সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প খুঁজে বের করতে যৌথ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এ উদ্যোগ সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিক থেকেও কার্যকর হতে হবে। যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গবেষণার জন্য টেমাসিক ফাউন্ডেশন ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অনুদানে একটি পাইলট প্রকল্প খুব শিগগিরই কাজ শুরু করবে। এ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা দেশীয় গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটিকে আরও ফলপ্রসূ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ঝিয়ং শি এবং সিমবায়োসিয়া এসইএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড কুয়েক ইয়ং কি তার দলের সদস্যরা অংশ নেন।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধি এবং গবেষকেরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম, বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. ফিরোজ জামান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এমপি/ আরআই