শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭:২৮, ২৫-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করেন জেলা সিভিল সার্জন। কিন্তু অনলাইনে টেন্ডার আহ্বানের পরপরই ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। পরে বাধ্য হয়ে টেন্ডার বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এবারও একইভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশ নিতে পারছেন না।
দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, টেন্ডার হ্যাকিংয়ের পেছনে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে তারা টেন্ডার প্রক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। ওই মাসেই সরবরাহ করা সামগ্রীর মজুত শেষ হয়ে যায়। নতুন টেন্ডার সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা: অখিল সরকার বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে এ বছর টেন্ডার সম্পন্ন হয়নি, ফলে আগামীতে ওষুধের সংকট হতে পারে। তাই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি।’
এদিকে, টেন্ডার হ্যাকিংয়ের ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই ১৫ দিনের ছুটিতে গেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো. শরীফুল আবেদীন কমল।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: খলিলুজ্জামান বলেন, ‘কে বা কারা টেন্ডার হ্যাক করেছে সেটা জানি না। তবে হ্যাক যে হয়েছে সেটা জেনেছি। আর সিভিল সার্জন ১৫ দিনের ছুটিতে আছেন। তিনি এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তিনি আসলে বিস্তারিত বলতে পারবেন। এর বেশি জানি না।’
টেন্ডার হ্যাকিংয়ের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এমপি/ আরআই