ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

চুয়াডাঙ্গার তিন হাসপাতালে বন্ধ অপারেশন, ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৪৭, ২৯-১০-২০২৬

চুয়াডাঙ্গার তিন হাসপাতালে বন্ধ অপারেশন, ভোগান্তিতে রোগীরা

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম। অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্টের পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে অপারেশন করানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। বাধ্য হয়ে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার অর্থের অভাবে অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

তিনটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিক সমস্যায় প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। দীর্ঘদিন অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার না করায় মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জামও নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই তিনটি পদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। অন্যদিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব পদের পাশাপাশি গাইনি কনসালটেন্টের পদও শূন্য রয়েছে।

জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের রোগী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। কারণ এখানে কম খরচে ওষুধ ও অপারেশন করানো সম্ভব। আমাদের পক্ষে বাইরে ক্লিনিকে অপারেশন করানো ও চিকিৎসক দেখানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে রোগ শরীরে পুষে রাখতে হয়। অপারেশন করার জন্য অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক নেই। তাহলে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কীভাবে চলছে?’

আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া জানান, তার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে পেটে ব্যথায় ভুগছিলেন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পর জানতে পারেন তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তাকে জানানো হয়, সেখানে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।

সেলিম মিয়া বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে কীভাবে স্ত্রীর অপারেশন করাব? আবার সংসারই বা কীভাবে চালাব?’

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা: হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে জনবলসংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য রয়েছে। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়া অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অ্যানেসথেসিয়ার পাশাপাশি সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন