ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিএমইউ উপাচার্য

সোরিয়াসিস চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২:২৬, ২৯-১০-২০২৬

সোরিয়াসিস চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

সোরিয়াসিস চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করলে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা: এফএম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সোরিয়াসিস কোনোভাবেই ছোঁয়াচে রোগ নয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা বা তাদের অবহেলা করার কোনো কারণ নেই।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ‘ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন’ বা ‘লুক বিয়ন্ড মাই স্কিন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা: এফএম সিদ্দিকী। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা অংশ নেন। পরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ডা: এফএম সিদ্দিকী বলেন, সোরিয়েসিস একটি দৃশ্যমান স্কিন ডিজিস। এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে ক্লোজ রিলেটিভ পরিবারের সদস্য, সমাজ বা কর্মক্ষেত্রে একটু দূরে থাকতে চান। এই সোরিয়েসিস এ্যাওয়ারনেস ক্লাবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, মানুষকে সচেতন করা। এই রোগটি কোন অবস্থাতেই ছোঁয়াচে রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা যাবে না, যাতে তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিত মনে করেন।

তিনি বলেন, এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি ত্বকে দৃশ্যমান হয়। এই রোগীদের এক তৃতীয়াংশ আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগেন। এই আর্থ্রাইটিস যদি প্রথম অবস্থায় ডায়াগনোসিস করা যায় এবং সেটির সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়, তাহলে সেই আর্থ্রাইটিসটি ভালভাবে কন্ট্রোল করা সম্ভব। সোরিয়েসিস খুব ভালভাবে কন্ট্রোল করা সম্ভব হয় এটি যদি করা না যায়, তবে আর্থ্রাইটিসটি খুব ডিস্ট্রাকটিভ হয়। তখন এই আথ্রাইটিস মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মেরুদণ্ডে আক্রান্ত করে, মানুষের চলাচলে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, যুগের অগ্রগতির সাথে অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি চলে এসেছে। সেই চিকিৎসাগুলো যদি রোগীদের দিতে পারি তাহলে সোরিয়াসিস হলেও এই রোগীরা সুন্দর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। সেজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমাদের চিকিৎসকরা, গণমাধ্যমের কর্মীরা এই মেসেজ ছড়িয়ে দেবেন, এই রোগ (সোরিয়াসিস) চিকিৎসা করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক চলার মত অসুখ। এটি কোন অবস্থাতেই ছোঁয়াচে রোগ নয়।

উপাচার্য আরও বলেন, সোরিয়াসিস চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ রোগ নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করার কোনো কারণ নেই। মনে রাখতে হবে, সোরিয়াসিস কোনোভাবেই ছোঁয়াচে রোগ নয়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা: মো. হালিমুর রশীদ এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা: এরফানুল হক সিদ্দিকী।

কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন। তারা সোরিয়াসিস রোগ, এর মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে দেশের ৩০০ জনের বেশি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন।

এমপি/ আরআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন