শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:৫১, ০৫-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গত মঙ্গলবার দুপুরে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা দাবি করেছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কাউকে হুমকি বা অবরুদ্ধ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুপ্রভা রাণী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ই-জিপি প্রক্রিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ই-জিপি নীতিমালা অনুসরণ করে অনলাইনে মূল্যায়নের পর গত ২ নভেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় কয়েকজন নেতা দরপত্রের শর্ত কঠিন হয়েছে দাবি করে তা বাতিলের চাপ দিতে থাকেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার কনফারেন্স রুমে সভায় ব্যস্ত থাকার সময় সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে আট থেকে ১০ জনের একটি দল তার দাপ্তরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেয়। পরে কক্ষে ঢুকে ছিটকিনি লাগিয়ে দরপত্র বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ডা: সুপ্রভা রাণী বলেন, ‘আমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রি-টেন্ডার করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং অফিসের বাইরে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণনাশের হুমকিতে আছি। অফিসে আপাতত যাচ্ছি না।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছেন। এ ছাড়া সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা: ওয়াসিম খান বলেন, যারা টেন্ডার পাননি, তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। তার কক্ষে গিয়ে সিসি ক্যামেরা উল্টানো অবস্থায় দেখা যায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ আসে। তবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হলেও প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তাকে জানানো হয়নি।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কাউকে কাজ না দিয়ে ঝিনাইদহ থেকে লোক এনে কমিটি করা হয়েছে এবং বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্বামীর মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পিন্টু আরও বলেন, ‘আমরা শুধু নিয়মের কথা বলতে গিয়েছিলাম। তাকে কোনো অবরুদ্ধ করা হয়নি বা প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়নি। থানার ওসি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিজের দুর্নীতি ঢাকতেই ওই কর্মকর্তা এখন মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।’
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানেন। টেন্ডার না পেলে বিভিন্ন দপ্তরে এ ধরনের হেনস্তা ও হয়রানিমূলক আচরণ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপাতত ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে কয়েক দিন নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। কয়েকজনকে দেখতে পেলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ তিনি পাননি। পরে তিনি নামাজ পড়তে যাওয়ার পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চলে গেছেন বলে জানতে পারেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমপি/ আরআই