শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪:৫৩, ০৬-০৮-২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৪, ০৬-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
আগে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে নতুন ৭০টি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বড় অংশে নতুন হাসপাতাল নির্মাণ ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে শহরাঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসেছে। যদিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে সে তুলনায় এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প বা বরাদ্দের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ঘরে ঘরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল ১৫ জুনের মধ্যে স্বাস্থ্যকার্ড চালুর ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যকার্ড কর্মসূচির প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন পায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, মন্ত্রণালয়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিষয়টিই বর্তমানে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
শোনা যাচ্ছে, গত সরকারের আমলে দুর্নীতির সঙ্গে আলোচিত মিঠু জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সক্রিয় হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুলের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রাশেদ আনোয়ারের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে পরিচালকের চাকরির মেয়াদ আর প্রায় ছয় মাস থাকায় তিনি এসব কেনাকাটায় আগ্রহী নন এবং অতীতের কোনো সিন্ডিকেটের দায় এড়িয়ে চলতে চান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. রাশেদ আনোয়ার অর্থমন্ত্রীর আত্মীয়। সূত্রের দাবি, তাকে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সূত্রের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আ. কা. মো. আশরাফুজ্জানকে তার বাসভবনে ডেকে পাঠান। সেখানে মন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্য খাতের কিছু কার্যক্রমে সমন্বয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ইডিসিএলের এমডি আ. কা. মো. আশরাফুজ্জানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রচন্ড চাপের মধ্যে আছেন বলেই ফোন কেটে দেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, স্বাস্থ্য খাতে আলোচিত ‘মিঠুচক্র’ কি আবারও সক্রিয় হচ্ছে?
এদিকে নতুন প্রকল্প বিষয়ক সভা আগামী সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সভায় প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পগুলো বিশ্লেষণ করে জনমুখী, সাধারণ মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে—এ ধরনের প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞরা।
এখন দেখার বিষয়, আগামী সপ্তাহের সভায় মন্ত্রণালয় কী ধরনের প্রকল্প অনুমোদন দেয়। স্বাস্থ্য খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল ও মিঠু চক্রের প্রভাব জয়ী হয়, নাকি তারেক জিয়ার নেতৃত্বে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য প্রাধান্য পায়—তা সময়ই বলে দেবে।
এমপি/ আরআই