শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:৫০, ৩০-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে ‘অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড রিসার্চ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, আক্রান্ত কয়েকটি শিশুর অসুস্থ পোলট্রির সংস্পর্শে আসার তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। এমনকি অসুস্থ পাখির সঙ্গে খেলাধুলার কারণেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পোলট্রি ও মানুষের নমুনায় একই ধরনের ভাইরাসের স্ট্রেইন শনাক্ত হওয়ায় অসুস্থ পাখির সংস্পর্শের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
গবেষকেরা জানান, বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ শুধু শীতকালে সীমাবদ্ধ নয়। এপ্রিল, মে ও আগস্ট মাসেও সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। তাই বছরজুড়েই নজরদারি ও সতর্কতা প্রয়োজন।
সেমিনারে উপস্থাপিত নজরদারির তথ্য অনুযায়ী, জীবন্ত পাখির বাজার থেকে সংগ্রহ করা মৃত পোলট্রির নমুনার ৬১ শতাংশে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস এবং ৪৯ শতাংশে এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পোলট্রি খামার ও বাজারে জীবাণুনিরাপত্তা জোরদার এবং মৃত পাখির নিরাপদ অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া গৃহপালিত বিড়ালের মধ্যে এইচ৫এন১ শনাক্তের ঘটনা ভাইরাসটির পাখির বাইরেও অন্যান্য প্রাণীতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। এ কারণে বিভিন্ন প্রাণী প্রজাতির মধ্যেও সংক্রমণ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। তিনি অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মোকাবিলায় নজরদারি ও গবেষণা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইসিডিডিআর,বির ওয়ান হেলথ রিসার্চ ইউনিটের বিজ্ঞানী ও টিম লিড ডা: সুকান্ত চৌধুরী পোলট্রি ও মানুষের মধ্যে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির ইনফ্লুয়েঞ্জা রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা: মার্থা মন্টগোমারি বিশ্বব্যাপী বার্ড ফ্লুর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া আইসিডিডিআর,বির অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট ডা: মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন ভাইরাসের বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিডিআইএলের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা: মো. গোলাম আজম চৌধুরী গৃহপালিত বিড়ালের মধ্যে এইচ৫এন১ শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্যানেল আলোচনায় অধ্যাপক ডা: নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ, ডা: এ এস এম আলমগীর এবং অধ্যাপক ডা: মো. রফিকুল ইসলাম দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তকরণ, তথ্য আদান-প্রদান ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রস্তুতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞরা বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি জোরদারের আহ্বান জানান। তাদের মতে, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে নজরদারি, দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
এমপি/ আরআই