শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩:৪১, ৩০-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০ তলা ভবনটির পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে মাত্র দুটি ব্যবহারযোগ্য। এর মধ্যে প্রবেশপথের ডান পাশের সিঁড়িটি বেশ সংকীর্ণ। অন্যদিকে উত্তর দিকের মাঝ বরাবর থাকা সিঁড়িটি তুলনামূলক বড় এবং ব্যবহার উপযোগী। ভবনের প্রবেশপথের বাম পাশের সিঁড়ি দখল করে হাসপাতাল শাখার কর্মচারীদের জন্য কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ওপরের বিভিন্ন ফ্লোরেও সিঁড়িটির বিভিন্ন অংশে পরিত্যক্ত সামগ্রী রাখা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব কোণের সিঁড়িটিও তালাবদ্ধ। হাসপাতালের এক কর্মচারী সেটি দখল করে রেখেছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে উত্তর-পশ্চিম কোণের সিঁড়ির কয়েকটি অংশ ক্লিনিক্যাল কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে, ভবনের তিনটি লিফটের মধ্যে দুটি চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত। ফলে রোগী ও স্বজনদের একটি লিফট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
ভবনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭টি বিভাগের মধ্যে ১২টির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রয়েছে দুটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ ও এনআইসিইউ) এবং ছয়টি অপারেশন থিয়েটার। এ ছাড়া পরিচালক (হাসপাতাল) অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও রয়েছে এখানে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীর চলাচল থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ভবনের নবম তলায় জেনারেল সার্জারি বিভাগের সামনে শিহাব উদ্দিন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, এখানে এতগুলো সিঁড়ি আছে জানতাম না। তবে ভবনের সিঁড়ি ও জরুরি যাতায়াত ব্যবস্থা এমন অনিরাপদ থাকলে দুর্ঘটনার সময় বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। এটা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে হেয়ালি ছাড়া কিছু না।
ষষ্ঠ তলায় নাক, কান ও গলা বিভাগের সামনে গোলাম মর্তুজা নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ওয়ার্ডের সামনেই সিঁড়ি। কিন্তু নামতে গিয়ে দেখি এটি ব্যবহার উপযোগী নয়। বিভিন্ন পরিত্যক্ত আসবাব রাখা হয়েছে। পাঁচটি সিঁড়ির তিনটিই এভাবে বন্ধ থাকলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া মাত্র একটি লিফট ব্যবহারের সুযোগ থাকায় অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়।
আরেক রোগীর স্বজন তারেক আহমেদ বলেন, সিঁড়িগুলোতে কোথাও ময়লা-আবর্জনা, কোথাও আসবাবপত্র, আবার কোথাও দখল করে কক্ষ বানানো হয়েছে। সিঁড়িগুলোও রোগীবান্ধব নয়। বড় ভূমিকম্প বা অগ্নিদুর্ঘটনার মতো দুর্যোগ হলে জীবন নিয়ে বের হওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা: হাসনাত আহসান সুমন বলেন, ভবনটিতে অনেকগুলো সিঁড়ি আছে, কিন্তু কেউ রুম বানিয়েছে, কেউ বন্ধ করে রেখেছে। আমরা সিঁড়িগুলোর এক্সেস ঠিক করার কাজটা নিয়েছি।
তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই সিঁড়িগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রেজিস্ট্রার অফিস থেকে অনেক আগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনও দিয়েছে। এই ভবনের সিঁড়ির এক্সেস নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য ভবনের ক্ষেত্রেও বন্ধ থাকা বিভিন্ন এক্সিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এমপি/ আরআই