শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:৪২, ৩০-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে মেডিকেল সেন্টারটির কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল সেন্টারে বর্তমানে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন এখানে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। জ্বর, সর্দি, কাশি ও বিভিন্ন সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি আসেন। তবে চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি কখনো কখনো প্রয়োজনীয় ওষুধেরও ঘাটতি দেখা দেয়।
মেডিকেল সেন্টারের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা: মোছাম্মৎ মমতাজ বেগম বলেন, বর্তমানে চারজন চিকিৎসক দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। অন্তত ১০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে এক থেকে দুইজন চিকিৎসক থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সন্ধ্যার পর কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিব ভূঁইয়া বলেন, সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। তখন বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। ক্যাম্পাসেই অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী রত্না আক্তার বলেন, রাতে অসুস্থ হয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহে যেতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলে এ ধরনের ভোগান্তি কমত। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহও বাড়ানো দরকার।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দিনের পাশাপাশি রাতেও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ মেডিকেল সেন্টারের সেবা চালু রাখতে হবে। বিশেষ করে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্য রাতের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন ও নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান জনবল দিয়েই সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারে বর্তমানে যে চারজন চিকিৎসক রয়েছেন, তা পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এ সংকট নিরসনে আরও চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে।
এমপি/ আরআই