শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩:২২, ৩০-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন। এতে স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ, জরুরি চিকিৎসা, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ও স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা: এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সচিব অধ্যাপক ডা: ফিরোজ কাদের এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. একরামুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। অনলাইনে বক্তব্য দেন স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির নিউরোলজি বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক আইরিশ গানওয়াল্ড।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ নজরুল হোসেন এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান রাশেদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, স্ট্রোক বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, ধূমপান, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও হৃদরোগ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারা আরও বলেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানো এবং জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।
আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় বক্তারা জানান, স্ট্রোকের ধরন, উপসর্গ শুরুর সময় ও রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা নির্বাচন জরুরি। ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে উপযুক্ত রোগীদের শিরাপথে থ্রম্বোলাইটিক চিকিৎসা এবং নির্বাচিত ক্ষেত্রে যান্ত্রিক থ্রম্বেকটমি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের ধরন অনুযায়ী নিবিড় পর্যবেক্ষণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় নিউরোসার্জিক্যাল চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ ও সোয়ালো থেরাপি এবং মনোসামাজিক সহায়তা রোগীর স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজে স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। এ জন্য দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু এবং ধারাবাহিকভাবে তা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
সেমিনারে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার, সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
এমপি/ আরআই