শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:৩৫, ০৫-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আমরা দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখতে পাই। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, তৎকালীন সরকার তা পরিচালনা করেনি। এমনকি মন্ত্রণালয়ে আপৎকালীন কোনো মজুতও (স্টক) রাখা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হলো না, তা দেশবাসীর জানা জরুরি। আমরা কোনো দোষারোপের রাজনীতি করতে চাই না, তবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে কোনো শিশুর জীবন যেন অকালে ঝরে না যায়, সেজন্যই একজন বিচারক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে।’
টিকা সংকট উত্তরণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করা হয়। মাত্র এক থেকে দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এ সময় তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও শরীরচর্চার অভাবে কম বয়সেই অনেকে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন। এতে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।
দূরদূরান্তের হৃদরোগীরা যাতে নিজ বাড়িতে বসেই সাশ্রয়ী পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি 'অ্যাক্রস-বিডি' গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের আটজন তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
এমপি/ আরআই