ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

কিডনি চিকিৎসকের পরিচয়ে ভেজাল ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫:৫৫, ২০-০৮-২০২৬

কিডনি চিকিৎসকের পরিচয়ে ভেজাল ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ২

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা: মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে ভুয়া ও অননুমোদিত ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন, চারটি সিম কার্ড ও সাতটি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তানভির আলম ওরফে রাহাত ও মো. নূরনবী ইসলাম ওরফে মানিক।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক ডা: মো. কামরুল ইসলামের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলেছিল। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার ছবি, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ভিডিও ও বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়। এসব বিজ্ঞাপনে প্রস্টেটের সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে ‘প্রস্টুলিন এফ’ নামের একটি পণ্য বিক্রির প্রচারণা চালানো হচ্ছিল।

তিনি বলেন, জনপ্রিয় চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ বিজ্ঞাপনগুলো বিশ্বাস করে প্রতারিত হচ্ছিলেন। ভুয়া পেজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে চক্রটি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছিল।

ডিবি জানায়, অধ্যাপক ডা: মো. কামরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী এ ঘটনায় আইনগত প্রতিকার চেয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির পর প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে যাচাই করে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও ভুয়া ফেসবুক পেজের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

তদন্তে চক্রটির সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে ওষুধ না কেনার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

এমপি/ আরআই

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন