শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:৫১, ২৫-১০-২০২৬ | আপডেট: ২:৫৫, ২৫-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বর্তমান পদায়নের আদেশ প্রত্যাহার করে অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
সূত্র জানায়, গত ১২ অক্টোবর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এরপর থেকেই মাকসুদা ইয়াসমিনের যোগদান ঠেকানো ও তার পদায়নের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তার আচরণও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। এসব কারণে তাকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন তারা।
এদিকে, টানা ১৩ দিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ফরম পূরণ, পরীক্ষা ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তাদের শিক্ষাজীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী লাভলু শেখ বলেন, ‘১৩ দিন ধরে আন্দোলন করছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত দাবির বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন আসেনি। ফরম পূরণের তারিখ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না। ডিসেম্বরে পরীক্ষার তারিখও পড়েছে। অথচ আমরা ক্লাসে ফিরতে পারছি না। কলেজে ইনচার্জ না থাকলে ফরম পূরণ করব কীভাবে? দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই। অন্যথায় আজ রাত থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করব।’
আরেক শিক্ষার্থী তাসলিমা বলেন, ‘আমাদের কি শিক্ষার্থী মনে হয় না? আমরা কি পড়াশোনা করব না, নাকি আন্দোলন করার জন্য এসেছি? আমাদের দাবি কেন মেনে নেওয়া হচ্ছে না? অধিদপ্তর কেন চুপ? আমরা ছুটিতে বাড়ি না গিয়ে আন্দোলন করছি। সবাই পূজার ছুটি কাটিয়েছে, কিন্তু আমরা এখানেই থেকেছি। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমরণ অনশন করবো।’
এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরপরও তারা কেন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, তা জানা নেই। আর আমরণ অনশনের বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
এমপি/ আরআই