ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

১০ কার্তিক ১৪৩৩, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফুসফুসের ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি কমাল অ্যামজেনের ওষুধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২:০৪, ২৫-১০-২০২৬

ফুসফুসের ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি কমাল অ্যামজেনের ওষুধ

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

ফুসফুসের ক্যান্সারের একটি আগ্রাসী ধরন স্মল সেল লাং ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি ৫৮ শতাংশ কমিয়েছে অ্যামজেনের ওষুধ ইমডেলট্রা। অ্যাস্ট্রাজেনেকার ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ইমফিনজির সঙ্গে সমন্বয়ে ব্যবহার করে এ ফল পাওয়া গেছে এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের মাদ্রিদে ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজির (ইএসএমও) এক সম্মেলনে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ।

গবেষণায় দেখা গেছে, দুটি ওষুধের সমন্বয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যম বেঁচে থাকার সময় ছিল ২১ দশমিক ১ মাস। অন্যদিকে, শুধু ইমফিনজি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১২ দশমিক ৭ মাস।

অ্যামজেন জানিয়েছে, সমন্বিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ এক বছর পরও বেঁচে ছিলেন। শুধু ইমফিনজি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ। তৃতীয় ধাপের (ফেজ-৩) এ গবেষণায় ৫৬৩ জন রোগী অংশ নেন।

বর্তমানে কেমোথেরাপির পর যেসব রোগীর ক্যান্সার বাড়তে থাকে না, তাদের ক্ষেত্রে ইমফিনজি প্রচলিত চিকিৎসার অংশ। অন্যদিকে, কেমোথেরাপির পরও ক্যান্সার বেড়ে গেলে উন্নত পর্যায়ের স্মল সেল লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসায় ইমডেলট্রা ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।

ইমডেলট্রা এক ধরনের দ্বৈত-লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ, যা বাইস্পেসিফিক অ্যান্টিবডি নামে পরিচিত। এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার টি-কোষকে ক্যান্সার কোষের কাছে নিয়ে গিয়ে সেগুলো ধ্বংস করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ইমফিনজি টিউমারকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা থেকে আড়াল হতে সাহায্য করা প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়।

তবে সমন্বিত চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বেশি ছিল। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সমন্বিত চিকিৎসা নেওয়া ২০ দশমিক ৯ শতাংশ রোগীর মধ্যে। শুধু ইমফিনজি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। সমন্বিত চিকিৎসা নেওয়া ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ রোগীর মধ্যে সাইটোকাইন রিলিজ সিনড্রোম দেখা যায়। এটি শরীরে বিপজ্জনক প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ ধরনের গুরুতর ঘটনার একটি মাত্র ঘটনা ছিল এবং এ কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর স্মল সেল লাং ক্যান্সারে আক্রান্তের নতুন রোগী শনাক্ত হন প্রায় আড়াই লাখ। ফুসফুসের ক্যান্সারের মোট রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এ ধরনে আক্রান্ত হন।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন