শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:২৩, ১২-১০-২০২৬ | আপডেট: ১২:২৫, ১২-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হন। এর আগে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে ৪২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়ায় রোববার সকাল ৮টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৮ জনে।
এরপর রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও ৬৮ জন রোগী ভর্তি হন। একই সময়ে আগের রোগীদের মধ্যে ৪৭ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ফলে সোমবার সকাল ৮টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৯ জনে। পরবর্তী দেড় ঘণ্টায় আরও ১২ জন ভর্তি হওয়ায় সকাল পৌনে ১০টায় এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬১ জনে।
এদিকে, হাসপাতালের প্রথম ভবনে অবস্থিত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪২টি। অথচ বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা শয্যাসংখ্যার তিন গুণেরও বেশি। ফলে ওয়ার্ডের মেঝে ও দুই পাশের দীর্ঘ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর চাপে ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড়। শয্যাগুলোতে রোগীরা শুয়ে আছেন। নার্সরা দ্রুত রোগীদের স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করছেন। শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের পাশাপাশি স্বজনদের উপস্থিতিতেও সেখানে ভিড় দেখা গেছে।
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের গোড়না এলাকা থেকে দুই বছর দুই মাস বয়সী ছেলে মহিরকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মোছা. আফছা। তিনি বলেন, ছেলের হঠাৎ পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে ঘন ঘন পায়খানা হতে থাকে। একপর্যায়ে তার শরীর একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর এলাকা থেকে আসা রোগী আব্দুল হালিমের মেয়ে জয়নুক পারভীন বলেন, আব্বার হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। পরে শুক্রবার রাতে তাকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে তাকে রেফার্ড করে জয়পুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে এসে কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। রোগীর চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে তার চিকিৎসা চলছে।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: আশিক আহমদ জেবাল বলেন, হঠাৎ ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ রয়েছে। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, খোলা, বাসি বা নষ্ট খাবার খাওয়া এবং দূষিত পানি পান করার কারণে অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সবাইকে খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। খোলা, বাসি বা নষ্ট খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
এমপি/ আরআই