শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১:১৮, ১২-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি ও আটঘরা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকের প্রভাবে মানুষ নানা রোগে ভুগছেন। কৃষ্ণকাটি গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, আনছার মোড়লসহ একটি পরিবারের সাতজন পুরুষ সদস্য গত কয়েক বছরে আর্সেনিকজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকজনিত জটিল চর্মরোগে ভুগছেন। তার দাবি, গত এক দশকে বাবা, মা, চাচা ও স্ত্রীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য একই রোগে মারা গেছেন। আক্রান্তদের ভাষ্য, গ্রামের কবরস্থানে নতুন করে মরদেহ দাফনের মতো জায়গাও প্রায় শেষ।
পাশের পাড়ার রেখা বেগমও আক্রান্ত হয়েছেন জটিল চর্মরোগে। কয়েক বছর আগে একই রোগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। রেখা বেগম বলেন, ‘আমাদের গ্রামের অনেকেই এই ঘায়ে আক্রান্ত। মাঝখানে কিছু লোক ভালো আছে, কিন্তু প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এক-দুইজন রোগী আছেন। হাতে ঘা হয়েছে, চুলকায় খুব। পানি খেলে এই কষ্ট আরও বাড়ে।’
গ্রামবাসীর দাবি, ২০০৫ সালে নমুনা পরীক্ষায় এলাকার ৯২ শতাংশের বেশি নলকূপের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যায়। এর প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি সামাজিক সংকটও তৈরি হয়েছে। আর্সেনিকজনিত রোগ ছোঁয়াচে না হলেও আক্রান্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
কৃষ্ণকাটি গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষের পানির প্রধান ভরসা বর্তমানে একটি গভীর নলকূপ। দীর্ঘদিনের এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, ‘ইউনিয়নের প্রায় সবকটি গ্রামেই নলকূপের পানিতে ব্যাপক আকারে আর্সেনিক রয়েছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণকাটি গ্রাম এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমন্তকাটি গ্রামের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।’
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: আব্দুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে ত্বকের রোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। আর্সেনিকের নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘অনেকের ভুল ধারণা থাকে যে আর্সেনিকযুক্ত পানি ফোটালে বিশুদ্ধ হয়। কিন্তু আর্সেনিকযুক্ত পানি ফোটালে তা আরও বেশি বিষাক্ত হয়ে ওঠে। তাই এই পানি পান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।’
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালাম বলেন, ‘আর্সেনিকের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। সাধারণত আমরা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন দিয়ে থাকি, যা এই মুহূর্তে সরবরাহ নেই। মাঠকর্মীদের মাধ্যমে আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।’
সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজ বলেন, ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রোডাকশন টিউবওয়েলের মাধ্যমে পাইপলাইনে নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমপি/ আরআই