ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ড. জিয়া

আমরা প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:৫৫, ২৩-১০-২০২৬

আমরা প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাই

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

আমরা প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা চাই রোগ হওয়ার আগেই রোগ নির্ণয় করতে। এ জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

গতকাল (২২ অক্টোবর) রাতে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এবারের অধিবেশনে তুলনামূলক ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে। সেখানে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকল্পনা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো ২৫ থেকে ২৬ জনের মতো কোর সদস্যের একটি ছোট দল নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘে গিয়েছিলাম। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা ও ভাবনা উপস্থাপন করেছি। আমাদের উপস্থাপনা নিয়ে পাঁচটি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলোচনা করেছেন।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিবর্তন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা, রোগ প্রতিরোধ এবং সংক্রমণের পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করা যায় তা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ এবং ‘ওয়ান হেলথ’ দর্শনের আলোকে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্বের তখনকার কাজগুলো হয়েছে ভৌগোলিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রীক।

শিশুদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেকের সাফল্য ও অর্জনের সুফল কোমলমতি শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বই আমাদের কর্মস্থল। এই ভাবনা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে ঝালকাঠির উন্নয়নেও সবাইকে একই মঞ্চে এসে কাজ করতে হবে।

ঝালকাঠির উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, জেলাটির জন্য ৮০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের বরাদ্দ একনেকে অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। বাসন্ডা সেতু দৃষ্টিনন্দনভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নদীকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন, ইকোপার্কে কালচারাল ভিলেজ, পরিচ্ছন্ন শহর, শহরে ডাম্পিং স্টেশন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য হাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আককাস সিকদারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মাহমুদউল্লাহ, বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির মহাসচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, বাস মালিক সমিতির সভাপতি আনিচুর রহমান তাপু, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আ স ম মাহমুদুর রহমান পারভেজ প্রমুখ।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন